ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবিক কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: কুমিল্লা অঞ্চলে ১২ দিনে ৮,৬৯২ রোগী পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে কুমিল্লা এরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পরিসরে মেডিকেল ক্যাম্পেইন সফলভাবে আয়োজন ও সম্পন্ন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

গত ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত টানা ১২ দিনব্যাপী এই মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। কুমিল্লা এরিয়ার লাকসাম, রামগঞ্জ, চৌমুহনী, সোনাগাজী, হাজীগঞ্জ এবং নবীনগর—এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল ও মেডিকেল স্টাফরা নিরলসভাবে সেবা প্রদান করেন।

এই ক্যাম্পেইনে মোট ৮,৬৯২ জন রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন। চিকিৎসাসেবা পাওয়া রোগীদের মধ্যে পুরুষ ২,৩৯৬ জন, নারী ৩,৯৬৬ জন এবং শিশু ২,৩৩০ জন। বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য, যা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সেনাবাহিনীর চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে ২১টি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। এসব অস্ত্রোপচার নিরাপদ পরিবেশে সম্পাদিত হওয়ায় রোগীরা দ্রুত সুস্থতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য আলাদা কাউন্টার স্থাপন করা হয়। এছাড়া রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যপরামর্শ, রোগ প্রতিরোধে করণীয় এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে।

স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেক রোগী জানান, দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তারা দীর্ঘদিন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর এই মেডিকেল ক্যাম্প তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশরক্ষার দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ নয়; দুর্যোগ মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

দেশমাতৃকার সেবায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদা প্রস্তুত—এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা আরও দৃঢ় করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মানবিক কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: কুমিল্লা অঞ্চলে ১২ দিনে ৮,৬৯২ রোগী পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

প্রকাশ : ০৬:৫১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে কুমিল্লা এরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পরিসরে মেডিকেল ক্যাম্পেইন সফলভাবে আয়োজন ও সম্পন্ন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

গত ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত টানা ১২ দিনব্যাপী এই মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। কুমিল্লা এরিয়ার লাকসাম, রামগঞ্জ, চৌমুহনী, সোনাগাজী, হাজীগঞ্জ এবং নবীনগর—এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল ও মেডিকেল স্টাফরা নিরলসভাবে সেবা প্রদান করেন।

এই ক্যাম্পেইনে মোট ৮,৬৯২ জন রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন। চিকিৎসাসেবা পাওয়া রোগীদের মধ্যে পুরুষ ২,৩৯৬ জন, নারী ৩,৯৬৬ জন এবং শিশু ২,৩৩০ জন। বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য, যা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সেনাবাহিনীর চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে ২১টি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। এসব অস্ত্রোপচার নিরাপদ পরিবেশে সম্পাদিত হওয়ায় রোগীরা দ্রুত সুস্থতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য আলাদা কাউন্টার স্থাপন করা হয়। এছাড়া রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যপরামর্শ, রোগ প্রতিরোধে করণীয় এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে।

স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেক রোগী জানান, দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তারা দীর্ঘদিন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর এই মেডিকেল ক্যাম্প তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশরক্ষার দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ নয়; দুর্যোগ মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

দেশমাতৃকার সেবায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদা প্রস্তুত—এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা আরও দৃঢ় করছে।