ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত জনগণ, গণতন্ত্রে বিশ্বাসের প্রমাণ দিচ্ছে বাংলাদেশ: ড. এম এ কাইয়ুম

বেগম খালেদা জিয়া রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এরপর শীতবস্ত্র বিতরণ করেন ড. এম এ কাইয়ুম

দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর আবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে দেশের মানুষ আজ আশাবাদী ও মুখিয়ে উঠেছে। জনগণের এই আগ্রহই প্রমাণ করে—বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং ভোটের মাধ্যমেই নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্গত হাতিরঝিল থানার ওয়াব্দা এলাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং অসহায় শীতার্তরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠিয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও সমাজ গঠনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাই তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়া গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি।”

এই উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ জাতীয় রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বশীল করবে।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। কিন্তু শুধু গণতন্ত্র ফিরে পেলেই হবে না—ভোটের মাধ্যমেই এটিকে রক্ষা করতে হবে। জনগণ যদি সজাগ ও সচেতন থাকে, তাহলে কোনো শক্তিই ভবিষ্যতে আর গণতন্ত্র কেড়ে নিতে পারবে না।”

ড. এম এ কাইয়ুম অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। নির্বাচন বানচালের যেকোনো চেষ্টা সরাসরি গণতন্ত্রবিরোধী কাজ। দেশের সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তারেক রহমান দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে একটি কল্যাণরাষ্ট্র ও আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

ঢাকা-১১ আসনের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি মাটি ও মানুষের রাজনীতি করি। আপনাদের পাশে নিয়েই কাজ করতে চাই। যদি আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে ঢাকা-১১ আসনের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

ড. এম এ কাইয়ুম আরও বলেন, “দেশের স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে বিএনপির সংগ্রাম অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বিএনপি কখনোই দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়নি। আমাদের রাজনীতি জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার রাজনীতি।”

শেষে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের মানুষের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। তার আদর্শ ও ত্যাগ আমাদের রাজনীতির অনুপ্রেরণা।”

তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, বরং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার নির্বাচন উল্লেখ করে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে গ্যালারিতে জাইমা রহমান

ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত জনগণ, গণতন্ত্রে বিশ্বাসের প্রমাণ দিচ্ছে বাংলাদেশ: ড. এম এ কাইয়ুম

প্রকাশ : ০৯:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর আবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে দেশের মানুষ আজ আশাবাদী ও মুখিয়ে উঠেছে। জনগণের এই আগ্রহই প্রমাণ করে—বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং ভোটের মাধ্যমেই নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্গত হাতিরঝিল থানার ওয়াব্দা এলাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং অসহায় শীতার্তরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠিয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও সমাজ গঠনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাই তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়া গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি।”

এই উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ জাতীয় রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বশীল করবে।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। কিন্তু শুধু গণতন্ত্র ফিরে পেলেই হবে না—ভোটের মাধ্যমেই এটিকে রক্ষা করতে হবে। জনগণ যদি সজাগ ও সচেতন থাকে, তাহলে কোনো শক্তিই ভবিষ্যতে আর গণতন্ত্র কেড়ে নিতে পারবে না।”

ড. এম এ কাইয়ুম অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। নির্বাচন বানচালের যেকোনো চেষ্টা সরাসরি গণতন্ত্রবিরোধী কাজ। দেশের সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তারেক রহমান দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে একটি কল্যাণরাষ্ট্র ও আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

ঢাকা-১১ আসনের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি মাটি ও মানুষের রাজনীতি করি। আপনাদের পাশে নিয়েই কাজ করতে চাই। যদি আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে ঢাকা-১১ আসনের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

ড. এম এ কাইয়ুম আরও বলেন, “দেশের স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে বিএনপির সংগ্রাম অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বিএনপি কখনোই দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়নি। আমাদের রাজনীতি জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার রাজনীতি।”

শেষে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের মানুষের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। তার আদর্শ ও ত্যাগ আমাদের রাজনীতির অনুপ্রেরণা।”

তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, বরং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার নির্বাচন উল্লেখ করে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।