রাজধানী ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ের চৌহাট ইউনিয়নের দ্বিমুখা বাজারে আজ দুপুর ১২টায়, স্থানীয় দ্বিমুখা খেলার মাঠটি রক্ষা করতে খেলোয়াড়সহ কয়কশো গ্রামবাসী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। সেসময় তারা প্রায় প্রত্যেকেই মাঠটিকে বাঁচাতে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, দ্বিমুখাসহ আশেপাশের গর্জনা, কান্দাপাড়া, আগতাড়াইল, মুন্সিচর, মনোহরপুর গ্রামের মধ্যে একমাত্র খেলার মাঠ হওয়ার সুবাদে, প্রতিদিনই এ মাঠটিতে নানা বয়সের খেলোয়াড়েরা ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া এ মাঠটিতেই রথযাত্রা উৎসবে রথটানেরও আয়োজন করাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া-কালামপুর বাসস্ট্যান্ড আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তকরণ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য জনস্বার্থমূলক উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী আঞ্চলিক মহাসড়কটি দ্বিমুখা খেলার মাঠের একটি বিরাট অংশের উপর দিয়ে নকশা করা হয়েছে। এতে করে মাঠটি তার সৌন্দর্য হারাবে এবং জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ার দরুন এ মাঠে আর কোনও খেলাই মান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবার সুযোগ থাকবে না। অথচ মাঠের ঠিক বিপরীত পাশে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ খাসজমি। সেই খাস জমির উপর দিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কটি করা হলে মহাসড়কের বাঁক কমে যাওয়াসহ সকলের প্রাণের খেলার মাঠটিও রক্ষা পাবে।
এ বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আনতেই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানায় মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সকলে। এ প্রসঙ্গে দ্বিমুখা গ্রামের ক্রীড়া সংগঠক মোঃ শরিফ হোসেন জানায়, অধিগ্রহণের জায়গাটি যদি খাস জমির উপর দিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে মাঠটি বেঁচে যাবে। আশেপাশের গ্রামের খেলোয়াড়েরা খেলাধূলা করার মাধ্যমে তাদের শরীর গঠন করা ছাড়াও, খেলার মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করতে পারবে। ক্রীড়ানুরাগী মোঃ ফরহাদ হোসেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে বলেন, ছেলেবেলা থেকেই এ মাঠটিতে খেলাধূলা করে আসছি আমরা। নূতন প্রজন্মের জন্য এই খেলার মাঠটি সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মাঠের উল্টোদিকের খাসজমিতে যদি অধিগ্রহণের জন্য জায়গা নেওয়া হয় তাহলে এ মাঠটি রক্ষা পাবে। দ্বিমুখা মাঠটির দেখভাল করা ও বিভিন্ন সময় খেলার আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকা মোঃ কামাল হোসেন বলেন, এ মাঠটির সাথে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে আত্মার মতো। আশেপাশের গ্রামের খেলোয়াড়রা এখানে এসে খেলাধূলা করে, এখান থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি। তাই এ মাঠটি রক্ষা করা আমাদের সকলের প্রাণের দাবী।
কান্দাপাড়া গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ লাল মিয়া ওরফে লাল ফকির বলেন, আমার ছেলেবেলা থেকেই এ মাঠটি দেখে আসছি। এ মাঠেই খেলাধূলা করে এসেছি। আমাদের আগামী দিনের প্রজন্ম এ মাঠে যেনো খেলাধূলা করতে পারে, সেজন্য রাস্তার পাশের খাস জমিতে আঞ্চলিক মহাসড়কের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হোক। দ্বিমুখা গ্রামের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম ক্রীড়াব্যক্তিত্ব বিন্দু চক্রবর্ত্তী বলেন, নেশা থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে খেলাধূলার কোনও বিকল্প নেই। দ্বিমুখা খেলার মাঠটি এমনই একটি খেলার মাঠ, যে মাঠের সাথে আশেপাশের ৫/৭ গ্রামের মানুষের ছেলেবেলা, কৈশোর, তারুণ্য, যৌবনের খেলাধূলার অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
এ মাঠটি যদি অধিগ্রহণের জন্য সংকুচিত করে ফেলা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের সকলের জন্যই তা খুবই দুঃখজনক ও কষ্টাদায়কই শুধু হবেনা, যুব সমাজ খেলাধূলা বিমুখ হয়ে মাদকে আসক্ত হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ, ইচ্ছে করলেই মাঠের বিপরীত দিকের সরকারী খাস জমিতে আঞ্চলিক মহাসড়কটি করা সম্ভব। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে আরোও উপস্থিত ছিলেন বাদশা মিয়া,ব্যারিষ্টার খোরশেদ আলম, হাসিবুল হাসান, মোঃ সোহেল, পরিমল রাজবংশী, সোহানুর রহমান, জুয়েল রানা, লতিফ, ইমন, যুগেশ সাহা, মোন্তাজ উদ্দিন, মোর্শেদ আহমেদ, মোঃ ফয়সাল ।
রাশেদুল হক 



















