বিভিন্ন স্থানে বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের মধ্যে পুলিশ সদস্যদের যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে তার নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
রোববার (২ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এক সাংবাদিক জানতে চান, পুলিশের যানবাহনে হামলার কোনো আশঙ্কা আছে কি না?
জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “ওরকম স্পেসিফিক কোনো তথ্য নেই। তবে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। সিনিয়র অফিসাররা নিয়মিত তদারকি করেন। “মাঠপর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করি, তারা যেন আরও সতর্ক থাকি, সেজন্যই এই রিমাইন্ডার।”
পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে শনিবার মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ ও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বার্তায় বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা এসব যানবাহনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তাই ডিউটির সময় যানবাহন থামালে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।
ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস প্রাঙ্গণে রাখা যানবাহনের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের নিজেদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বোমা-সংক্রান্ত ঘটনা এবং গুজব ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে পুলিশকে আবারও সতর্ক করা হয়েছে।
“আগেও এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহন থেকে শুরু করে স্থাপনাগুলো যেন নিরাপদ থাকে, সেজন্য সদস্যদের অধিক সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে কিছু ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। সে কারণেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এটা একটা রিমাইন্ডার।”
গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একটি বস্তাকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার চায়ের দোকানের সামনে থেকে ‘শক্তিশালী বোমা’ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছিল ডিএমপি। পরে বোমটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
সবশেষ শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেগুলো বিস্ফোরকমুক্ত বলে জানায় ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।
মতিঝিলে আইইডি উদ্ধার নিয়ে এক প্রশ্নে ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার তদন্ত করছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। ডিবি এ ঘটনায় ‘ছায়া তদন্ত’ করছে।
‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।’
এ ঘটনায় কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত এককভাবে কেউ করে না। ‘কোনো না কোনো মতাদর্শ বা উদ্দেশ্য প্রচারের জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে।’
প্রথম ভোর ডেস্ক,ঢাকা 


















