নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ সভা ও আগস্ট ২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী জেলা পুলিশ লাইন্সে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলার বিভিন্ন ইউনিটের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা মাস্টার প্যারেডে অংশ নেন।
পরে সকাল ১০টায় পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জ ও পুলিশ সদস্যরা তাদের সামষ্টিক সমস্যা ও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
সভায় পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) দীপংকর ঘোষ এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জামাল উদ্দিন বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্দর থানা এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মী বুলবুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচিত সন্ত্রাসী শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত শেখ সিফাতসহ ১১ আসামিকে দেশীয় অস্ত্রসহ মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে।

এসআই (নিঃ) মো. রমজান হোসেন জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৫৬টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তিসহ আইনগত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এএসআই (নিঃ) আনোয়ার হোসেন শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৩৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি, আসামি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৩৯ পিস ইয়াবা ও ৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেন।
এসআই মো. আবু সাদেক শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৭৬ কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন।
এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধারকারী কর্মকর্তা এবং ক্লুলেস মামলার ডিটেকশনকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। তিনি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন এবং লুণ্ঠিত হায়েস গাড়ি উদ্ধার করেন।
এসআই মফিজুল ইসলাম পিপিএম ক্লুলেস মামলার ডিটেকশনকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ডাকাতি মামলায় আসামি গ্রেপ্তার ও স্বর্ণ উদ্ধারের পাশাপাশি অপহৃত তিনজন ভিকটিমকে ৫৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার এবং অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এসআই (নিঃ) মিঠুন কুমার দত্ত জেলার শ্রেষ্ঠ ডিবি কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া জেলা বিশেষ শাখায় (ডিএসবি) কর্মরত এসআই (নিঃ) মো. ইজাহার আলী, ওয়াচার কনস্টেবল মো. মোখলেছুর রহমান, ওয়াচার কনস্টেবল মো. ইসমাইল খান, কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ বিন ইউসুফ (এসএএফ) এবং কনস্টেবল মামুন অর রশিদ (এসএএফ)-কে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
দুপুর ১২টায় আগস্ট ২০২৬ মাসের বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আগস্ট মাসের বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি, অপরাধের পরিসংখ্যান ও আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
সভায় পুলিশ সুপার মামলা তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সিআইডি নারায়ণগঞ্জের চিফ মো. জাকির হোসেন, পিবিআই নারায়ণগঞ্জের ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বিপিএম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাহমুদসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা 


















