ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধান বীজ ও চারা পাবেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষক: কৃষিমন্ত্রী

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেওয়া হবে বলে তথ্য দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। শুক্রবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজলার দোহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষী ও খামারীদের মধ্যে ধান বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং গবাদি পশুকে টিকা দান কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।

আমিন উর রশিদ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাঁচ জেলার শতভাগ গবাদিপশুকে খুরা রোগের (এফএমডি) টিকার আওতায় আনা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের বীজতলা। বন্যার পানি আসার আগেই কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের বেশি পানির নিচে থাকায় চারার উপযোগিতা নষ্ট হয়ে গেছে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বীজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যাদের জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে এবং এখনই বীজ বোনার সুযোগ নেই, তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে বিকল্প বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উৎপাদিত চারা ১৫ থেকে ২০ দিন পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা রোপণ করতে পারেন।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় খুরা রোগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের। তাই আজ থেকেই বন্যা কবলিত পাঁচ জেলায় ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি বন্যার কারণে সৃষ্ট গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতেও সহায়তা বাড়ান হবে।

মাছ চাষেও কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চলছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে দখল হওয়া সরকারি খাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন কৃষিমন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নূরনবী ভুঁইয়া, ১২ সদস্যও নিয়োগ

ধান বীজ ও চারা পাবেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষক: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৫:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেওয়া হবে বলে তথ্য দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। শুক্রবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজলার দোহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষী ও খামারীদের মধ্যে ধান বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং গবাদি পশুকে টিকা দান কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।

আমিন উর রশিদ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাঁচ জেলার শতভাগ গবাদিপশুকে খুরা রোগের (এফএমডি) টিকার আওতায় আনা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের বীজতলা। বন্যার পানি আসার আগেই কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের বেশি পানির নিচে থাকায় চারার উপযোগিতা নষ্ট হয়ে গেছে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বীজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যাদের জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে এবং এখনই বীজ বোনার সুযোগ নেই, তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে বিকল্প বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উৎপাদিত চারা ১৫ থেকে ২০ দিন পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা রোপণ করতে পারেন।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় খুরা রোগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের। তাই আজ থেকেই বন্যা কবলিত পাঁচ জেলায় ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি বন্যার কারণে সৃষ্ট গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতেও সহায়তা বাড়ান হবে।

মাছ চাষেও কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চলছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে দখল হওয়া সরকারি খাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন কৃষিমন্ত্রী।