ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দেখে ফেরার পথে বাসের চাপায় দুই সাংবাদিক নিহত

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর উত্তরায় বাসের চাপায় দুই সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের জসিমউদ্দীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দুজন হলেন দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ–এর সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু এবং সংবাদ দিগন্ত–এর সাংবাদিক সাকিবুল হাসান। সাংবাদিক মহলে পরিচিত এই দুই ব্যক্তি উত্তরা প্রেসক্লাবের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। রবিউল আলম রাজু প্রেসক্লাবের আপ্যায়ন সম্পাদক এবং সাকিবুল হাসান অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে উত্তরার একটি স্থানে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখেন তারা। খেলা শেষে ভোরের দিকে বাসায় ফেরার সময় জসিমউদ্দীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করলে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দেয়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক জানান, দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক গাড়িসহ পালিয়ে গেছেন। বাসটি শনাক্ত এবং চালককে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

এই দুর্ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দায়ী বাসচালককে দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীতে বেপরোয়া গতির যানবাহনের কারণে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরের দিকে সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণের অভাব এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনাও সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এল।

জনপ্রিয় সংবাদ

Depositing Made Easy: Payment Methods at Fortune Coins casino

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দেখে ফেরার পথে বাসের চাপায় দুই সাংবাদিক নিহত

প্রকাশ : ০৫:৫৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর উত্তরায় বাসের চাপায় দুই সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের জসিমউদ্দীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দুজন হলেন দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ–এর সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু এবং সংবাদ দিগন্ত–এর সাংবাদিক সাকিবুল হাসান। সাংবাদিক মহলে পরিচিত এই দুই ব্যক্তি উত্তরা প্রেসক্লাবের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। রবিউল আলম রাজু প্রেসক্লাবের আপ্যায়ন সম্পাদক এবং সাকিবুল হাসান অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে উত্তরার একটি স্থানে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখেন তারা। খেলা শেষে ভোরের দিকে বাসায় ফেরার সময় জসিমউদ্দীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করলে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দেয়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক জানান, দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক গাড়িসহ পালিয়ে গেছেন। বাসটি শনাক্ত এবং চালককে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

এই দুর্ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দায়ী বাসচালককে দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীতে বেপরোয়া গতির যানবাহনের কারণে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরের দিকে সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণের অভাব এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনাও সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এল।