ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জ-দাউদপুরে ভোটের হাওয়া, গোপনে প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের প্রার্থীদেরও

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা থেমে নেই। নির্বাচন কবে হবে, চলতি বছর আদৌ নির্বাচন হবে কি না—তা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ শুরু করেছেন। বিএনপির একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মাঠে থাকলেও আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের কয়েকজনও গোপনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি ৬৩ জেলার ৮০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আগামী ১২ নভেম্বর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর কিছুদিন পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলতি ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানান। এতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে রূপগঞ্জ ও দাউদপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার সদর রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ প্রায় তিন বছর আগে শেষ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ায় দুই ইউনিয়নেই প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কার্যক্রম চলছে। এদিকে এ দুটি ইউনিয়নের পর উপজেলার কাঞ্চন ও তারাবো পৌরসভা এবং গোলাকান্দাইল, ভুলতা, মুড়াপাড়া, কায়েতপাড়া ও ভোলাবো ইউনিয়ন নিয়েও নির্বাচনের গুঞ্জন রয়েছে। ফলে এসব এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন।

ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নকে ভেঙে একটি পৌরসভায় রূপান্তরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এ কারণে সেখানে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যেও আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

রূপগঞ্জ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নূরনবী ভূঁইয়া। নির্বাচন হলে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন কিংবা পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়নকাজ থেকে তিনি কোনো কমিশন নেবেন না। বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে চান তিনি।

এদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ সক্রিয় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবু মোহাম্মদ মাসুম। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তিনি। বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা, কারাবরণ ও হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে দলীয় সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

আবু মোহাম্মদ মাসুম বলেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এখানে ভূমিদস্যুতা, মাদক, সন্ত্রাস, জলাবদ্ধতা ও জননিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর ‘স্বপ্নের রূপগঞ্জ’ বাস্তবায়নে ইউনিয়নটিকে আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চান তিনি।

অন্যদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজনও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আনছর আলী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের পারিবারিক সূত্রের দাবি, নির্বাচন হলে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, আনছর আলী গোপনে এতিমখানা, মাদরাসা ও মসজিদে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে আনছর আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া ও তার পরিবারের সদস্যরাও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের পুরোনো সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

দাউদপুর ইউনিয়নেও বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন আকন্দের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সুলতান মাহমুদকে বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের নির্যাতিত নেতা হিসেবে উল্লেখ করছেন তার সমর্থকেরা। তার বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা রয়েছে বলেও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচার রয়েছে। অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও এলাকায় জনসম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা পৃথকভাবে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

দাউদপুরে আওয়ামী লীগের হয়ে যুবলীগ নেতা আজিজুল মালুম চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি নিজের প্রার্থিতার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু বকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। দাউদপুর ইউনিয়নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সদস্যসচিব সাখাওয়াত হোসেন তারেকের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই ইউনিয়নে জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত প্রার্থীদের বড় ধরনের প্রকাশ্য প্রচারণা দেখা যায়নি।

স্থানীয় সচেতন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় কেউ কেউ প্রশাসক ও বিনা নির্বাচনে ইউপি সদস্য হওয়ার জন্য তদবির করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ভোটারদের একটি বড় অংশ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ফলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও রূপগঞ্জ ও দাউদপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন হলে দলীয় প্রতীক থাকবে কি না, আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না এবং শেষ পর্যন্ত কারা দলীয় বা স্থানীয় সমর্থন পাবেন—এসব বিষয় নিয়েই এখন দুই ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

হলান ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শনে এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন

রূপগঞ্জ-দাউদপুরে ভোটের হাওয়া, গোপনে প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের প্রার্থীদেরও

প্রকাশ : ০৫:৩৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা থেমে নেই। নির্বাচন কবে হবে, চলতি বছর আদৌ নির্বাচন হবে কি না—তা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ শুরু করেছেন। বিএনপির একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মাঠে থাকলেও আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের কয়েকজনও গোপনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি ৬৩ জেলার ৮০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আগামী ১২ নভেম্বর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর কিছুদিন পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলতি ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানান। এতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে রূপগঞ্জ ও দাউদপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার সদর রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ প্রায় তিন বছর আগে শেষ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ায় দুই ইউনিয়নেই প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কার্যক্রম চলছে। এদিকে এ দুটি ইউনিয়নের পর উপজেলার কাঞ্চন ও তারাবো পৌরসভা এবং গোলাকান্দাইল, ভুলতা, মুড়াপাড়া, কায়েতপাড়া ও ভোলাবো ইউনিয়ন নিয়েও নির্বাচনের গুঞ্জন রয়েছে। ফলে এসব এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন।

ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নকে ভেঙে একটি পৌরসভায় রূপান্তরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এ কারণে সেখানে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যেও আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

রূপগঞ্জ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নূরনবী ভূঁইয়া। নির্বাচন হলে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন কিংবা পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়নকাজ থেকে তিনি কোনো কমিশন নেবেন না। বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে চান তিনি।

এদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ সক্রিয় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবু মোহাম্মদ মাসুম। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তিনি। বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা, কারাবরণ ও হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে দলীয় সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

আবু মোহাম্মদ মাসুম বলেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এখানে ভূমিদস্যুতা, মাদক, সন্ত্রাস, জলাবদ্ধতা ও জননিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর ‘স্বপ্নের রূপগঞ্জ’ বাস্তবায়নে ইউনিয়নটিকে আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চান তিনি।

অন্যদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজনও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আনছর আলী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের পারিবারিক সূত্রের দাবি, নির্বাচন হলে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, আনছর আলী গোপনে এতিমখানা, মাদরাসা ও মসজিদে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে আনছর আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া ও তার পরিবারের সদস্যরাও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের পুরোনো সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

দাউদপুর ইউনিয়নেও বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন আকন্দের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সুলতান মাহমুদকে বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের নির্যাতিত নেতা হিসেবে উল্লেখ করছেন তার সমর্থকেরা। তার বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা রয়েছে বলেও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচার রয়েছে। অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও এলাকায় জনসম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা পৃথকভাবে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

দাউদপুরে আওয়ামী লীগের হয়ে যুবলীগ নেতা আজিজুল মালুম চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি নিজের প্রার্থিতার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু বকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। দাউদপুর ইউনিয়নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সদস্যসচিব সাখাওয়াত হোসেন তারেকের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই ইউনিয়নে জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত প্রার্থীদের বড় ধরনের প্রকাশ্য প্রচারণা দেখা যায়নি।

স্থানীয় সচেতন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় কেউ কেউ প্রশাসক ও বিনা নির্বাচনে ইউপি সদস্য হওয়ার জন্য তদবির করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ভোটারদের একটি বড় অংশ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ফলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও রূপগঞ্জ ও দাউদপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন হলে দলীয় প্রতীক থাকবে কি না, আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না এবং শেষ পর্যন্ত কারা দলীয় বা স্থানীয় সমর্থন পাবেন—এসব বিষয় নিয়েই এখন দুই ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।