ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নয় ইরান, শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূতদের সঙ্গে তারা কোনো বৈঠক করবে না। এতে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। এরপরই কেবল পরমাণু কর্মসূচির সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতার মতো জটিল ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এ সফরকে ‘উচ্চপর্যায়ের আলোচনা’ বলে উল্লেখ করলেও ইরান ও কাতার জানিয়েছে, তারা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন না; কেবল মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা হবে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে দোহা। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী স্পষ্ট করে বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে কোনো পর্যায়েই বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।’

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, আপাতত নিম্নপর্যায়ের কারিগরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও সামরিক হামলার বিকল্প বিবেচনা করেছিলেন। এ নিয়ে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে আপাতত কূটনীতিকে আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে এবং ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের, আর সেখানে চলাচলের নিয়ম ইরানই নির্ধারণ করবে।’

এর জবাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আন্তর্জাতিক এ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না।

যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া পৃথক ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারকে যুক্ত করায় নতুন এ কাঠামো দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আলোচনা সভা ও অভিভাবক সমাবেশ: শিক্ষার উন্নয়নে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা অপরিহার্য :ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নয় ইরান, শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশ : ০৫:০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ইরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূতদের সঙ্গে তারা কোনো বৈঠক করবে না। এতে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। এরপরই কেবল পরমাণু কর্মসূচির সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতার মতো জটিল ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এ সফরকে ‘উচ্চপর্যায়ের আলোচনা’ বলে উল্লেখ করলেও ইরান ও কাতার জানিয়েছে, তারা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন না; কেবল মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা হবে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে দোহা। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী স্পষ্ট করে বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে কোনো পর্যায়েই বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।’

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, আপাতত নিম্নপর্যায়ের কারিগরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও সামরিক হামলার বিকল্প বিবেচনা করেছিলেন। এ নিয়ে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে আপাতত কূটনীতিকে আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে এবং ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের, আর সেখানে চলাচলের নিয়ম ইরানই নির্ধারণ করবে।’

এর জবাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আন্তর্জাতিক এ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না।

যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া পৃথক ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারকে যুক্ত করায় নতুন এ কাঠামো দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স