ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদা না পেয়ে অপপ্রচার, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ রূপগঞ্জ ইউএনও’র

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জয় অভিযোগ করেছেন, সাংবাদিক পরিচয়ে এক ব্যক্তি তার কাছে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য তিনটি বিমানের টিকিট, পাঁচতারকা হোটেলে তিন রাতের থাকার ব্যবস্থা এবং পরে নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই দাবি পূরণ না করায় তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ‘অপরাধ বিচিত্রা’ নামের একটি গণমাধ্যমের পরিচয়ে শাহিন নামের এক ব্যক্তি প্রথমে সাংবাদিক পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তিনি কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য তিনটি বিমানের টিকিট এবং একটি পাঁচতারকা হোটেলে তিন রাতের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি সেই অনুরোধে সাড়া না দিলে পরবর্তীতে একই ব্যক্তি নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, টাকার দাবিও প্রত্যাখ্যান করা হলে ওই ব্যক্তি সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার হুমকি দেন। শুধু মৌখিকভাবে নয়, মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দাবির বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজশে তার বিরুদ্ধে এক শতাংশ তহবিলের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। তবে ওই সংবাদে প্রকাশিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন ইউএনও।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, জমি নিবন্ধনের মাধ্যমে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল সরকারি বিধিমালা ও প্রচলিত আর্থিক নীতিমালা অনুসরণ করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এসব প্রকল্পের অনুমোদন, বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের তথ্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন। ফলে তহবিল আত্মসাতের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের অপচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তা শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের নয়, প্রকৃত সাংবাদিকতার ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল পেশা। কিন্তু কিছু ব্যক্তি এ পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ালে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যেন এ ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।”

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদা না পেয়ে অপপ্রচার, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ রূপগঞ্জ ইউএনও’র

প্রকাশ : ০৬:১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জয় অভিযোগ করেছেন, সাংবাদিক পরিচয়ে এক ব্যক্তি তার কাছে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য তিনটি বিমানের টিকিট, পাঁচতারকা হোটেলে তিন রাতের থাকার ব্যবস্থা এবং পরে নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই দাবি পূরণ না করায় তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ‘অপরাধ বিচিত্রা’ নামের একটি গণমাধ্যমের পরিচয়ে শাহিন নামের এক ব্যক্তি প্রথমে সাংবাদিক পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তিনি কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য তিনটি বিমানের টিকিট এবং একটি পাঁচতারকা হোটেলে তিন রাতের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি সেই অনুরোধে সাড়া না দিলে পরবর্তীতে একই ব্যক্তি নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, টাকার দাবিও প্রত্যাখ্যান করা হলে ওই ব্যক্তি সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার হুমকি দেন। শুধু মৌখিকভাবে নয়, মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দাবির বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজশে তার বিরুদ্ধে এক শতাংশ তহবিলের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। তবে ওই সংবাদে প্রকাশিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন ইউএনও।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, জমি নিবন্ধনের মাধ্যমে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল সরকারি বিধিমালা ও প্রচলিত আর্থিক নীতিমালা অনুসরণ করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এসব প্রকল্পের অনুমোদন, বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের তথ্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন। ফলে তহবিল আত্মসাতের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের অপচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তা শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের নয়, প্রকৃত সাংবাদিকতার ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল পেশা। কিন্তু কিছু ব্যক্তি এ পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ালে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যেন এ ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।”

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।