ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর, ‘শাপলার কসাই’ উল্লেখ করে শফিকুল আলমের প্রতিক্রিয়া

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিমানবন্দরে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে ইন্টারপোল।

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বেনজীরকে ইঙ্গিত করে লেখেন, “The Butcher of Shapla is done!! Next in line…!!” যার বাংলা অর্থ, “শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ, এবার পরবর্তী জনের পালা।”

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলার তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য সামনে আসে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্থার তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তার নামে ও বেনামে অর্জিত বিপুল সম্পদের তথ্যও প্রকাশ্যে আসে।

এদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম অভিযুক্তও বেনজীর আহমেদ। ওই সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সংঘটিত ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর, ‘শাপলার কসাই’ উল্লেখ করে শফিকুল আলমের প্রতিক্রিয়া

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর, ‘শাপলার কসাই’ উল্লেখ করে শফিকুল আলমের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ : ০৯:৫২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিমানবন্দরে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে ইন্টারপোল।

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বেনজীরকে ইঙ্গিত করে লেখেন, “The Butcher of Shapla is done!! Next in line…!!” যার বাংলা অর্থ, “শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ, এবার পরবর্তী জনের পালা।”

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলার তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য সামনে আসে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্থার তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তার নামে ও বেনামে অর্জিত বিপুল সম্পদের তথ্যও প্রকাশ্যে আসে।

এদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম অভিযুক্তও বেনজীর আহমেদ। ওই সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সংঘটিত ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।