ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে আধুনিক ল্যান্ডফিল গড়ে তোলা হবে, বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

রূপগঞ্জ পৌরসভা ও শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে পৃথক ল্যান্ডফিল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, নতুন এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র চালু হলে সেখানে পৌরসভা ও শিল্পকারখানার সব ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্টভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেসব বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

রোববার (১৪ জুন) রূপগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বর্তমানে বাংলাদেশে কাজ করছে। তারা বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন করছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি হয়েছে। রূপগঞ্জে নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের পর বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলকে সেখানে পাঠানো হবে। তারা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করবে।

তিনি আরও বলেন, “বর্জ্যকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে এটি আর সমস্যা থাকবে না, বরং অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে। পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমবে, একই সঙ্গে বর্জ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।”

এশিয়ান হাইওয়ের পাশে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঈদের ছুটির সময় অসচেতনভাবে এখানে বর্জ্য ফেলা হয়েছিল। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি দ্রুত এটি অপসারণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে গত দুই দিন ধরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এখানে বা মহাসড়কের পাশে কেউ বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন দেশের কোনো মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথের পাশে ময়লার ভাগাড় বা ল্যান্ডফিল রাখা যাবে না। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, “কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এশিয়ান হাইওয়ের পাশে ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম রূপগঞ্জের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রূপগঞ্জ পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার

রূপগঞ্জে আধুনিক ল্যান্ডফিল গড়ে তোলা হবে, বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

প্রকাশ : ০৩:০২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রূপগঞ্জ পৌরসভা ও শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে পৃথক ল্যান্ডফিল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, নতুন এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র চালু হলে সেখানে পৌরসভা ও শিল্পকারখানার সব ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্টভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেসব বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

রোববার (১৪ জুন) রূপগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বর্তমানে বাংলাদেশে কাজ করছে। তারা বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন করছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি হয়েছে। রূপগঞ্জে নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের পর বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলকে সেখানে পাঠানো হবে। তারা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করবে।

তিনি আরও বলেন, “বর্জ্যকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে এটি আর সমস্যা থাকবে না, বরং অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে। পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমবে, একই সঙ্গে বর্জ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।”

এশিয়ান হাইওয়ের পাশে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঈদের ছুটির সময় অসচেতনভাবে এখানে বর্জ্য ফেলা হয়েছিল। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি দ্রুত এটি অপসারণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে গত দুই দিন ধরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এখানে বা মহাসড়কের পাশে কেউ বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন দেশের কোনো মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথের পাশে ময়লার ভাগাড় বা ল্যান্ডফিল রাখা যাবে না। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, “কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এশিয়ান হাইওয়ের পাশে ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম রূপগঞ্জের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রূপগঞ্জ পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত হবে।