ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১৮ এর এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের উপস্থিতিতে কুর্মিটোলা হাই স্কুলে স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী

  • হাফিজুর রহমান
  • প্রকাশ : ০৬:১৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • ২৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা, গবেষণার আগ্রহ এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) কর্তৃক আয়োজিত ক্যান্টনমেন্ট থানা শিক্ষা অফিসের অন্তর্ভুক্ত স্কুলসমূহের Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing Programme বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর কুর্মিটোলা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ ধারণা উপস্থাপন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তাঁর উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্পসমূহ প্রদর্শন করে এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তুলে ধরে। প্রদর্শনীতে পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রযুক্তি এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানভিত্তিক নানা প্রকল্প স্থান পায়।

প্রধান অতিথি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের যুগে তরুণদের সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাই একটি দেশের অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে তাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং গবেষণামুখী শিক্ষার প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তব জীবনের সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধান খুঁজে বের করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আজকের এই আয়োজন সেই সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এখানে যে সকল প্রকল্প ও ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে, তার অনেকগুলো ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তুলতে সরকার ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে বিকশিত করতে পারলে বাংলাদেশ জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত স্টার্টআপ পরিকল্পনা, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিচারক ও অতিথিরা প্রতিটি প্রকল্প পর্যালোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী অনেক শিক্ষার্থী তাদের উদ্ভাবনকে বাস্তব উদ্যোক্তা উদ্যোগে রূপ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে ক্যান্টনমেন্ট থানা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও গবেষণামুখী শিক্ষায় উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুড়াপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২৫ বছর পূর্তি উদযাপন

ঢাকা-১৮ এর এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের উপস্থিতিতে কুর্মিটোলা হাই স্কুলে স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী

প্রকাশ : ০৬:১৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা, গবেষণার আগ্রহ এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) কর্তৃক আয়োজিত ক্যান্টনমেন্ট থানা শিক্ষা অফিসের অন্তর্ভুক্ত স্কুলসমূহের Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing Programme বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর কুর্মিটোলা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ ধারণা উপস্থাপন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তাঁর উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্পসমূহ প্রদর্শন করে এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তুলে ধরে। প্রদর্শনীতে পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রযুক্তি এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানভিত্তিক নানা প্রকল্প স্থান পায়।

প্রধান অতিথি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের যুগে তরুণদের সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাই একটি দেশের অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে তাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং গবেষণামুখী শিক্ষার প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তব জীবনের সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধান খুঁজে বের করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আজকের এই আয়োজন সেই সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এখানে যে সকল প্রকল্প ও ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে, তার অনেকগুলো ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তুলতে সরকার ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে বিকশিত করতে পারলে বাংলাদেশ জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত স্টার্টআপ পরিকল্পনা, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিচারক ও অতিথিরা প্রতিটি প্রকল্প পর্যালোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী অনেক শিক্ষার্থী তাদের উদ্ভাবনকে বাস্তব উদ্যোক্তা উদ্যোগে রূপ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে ক্যান্টনমেন্ট থানা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও গবেষণামুখী শিক্ষায় উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।