ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেডআরএফ-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে ‘মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে-বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন জেডআরএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

আজ বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে-বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন।

জেডআরএফ-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে এবং জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জেডআরএফ গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জেডআরএফ-এর পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন এবং কৃষিবিদ বয়জার রহমান প্রমুখ।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, জেডআরএফ-এর পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, আমিরুল ইসলাম কাগজীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, ছায়া সৃষ্টি এবং একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহর আরও সবুজ, নির্মল ও সৌন্দর্যমন্ডি হয়ে উঠবে।

তিনি বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি প্রচলিত কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপান্তরের আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশভিত্তিক স্টার্ট-আপ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

ডা. জুবাইদা বলেন, চিকিৎসাবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের নানা সমস্যার সমাধান সম্ভব। নতুন নতুন উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে মানুষের কষ্ট লাঘব এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান প্রতিযোগিতার সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

জেডআরএফ-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

প্রকাশ : ০৫:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে ‘মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে-বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন জেডআরএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

আজ বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে-বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন।

জেডআরএফ-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে এবং জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জেডআরএফ গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জেডআরএফ-এর পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন এবং কৃষিবিদ বয়জার রহমান প্রমুখ।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, জেডআরএফ-এর পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, আমিরুল ইসলাম কাগজীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, ছায়া সৃষ্টি এবং একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহর আরও সবুজ, নির্মল ও সৌন্দর্যমন্ডি হয়ে উঠবে।

তিনি বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি প্রচলিত কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপান্তরের আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশভিত্তিক স্টার্ট-আপ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

ডা. জুবাইদা বলেন, চিকিৎসাবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের নানা সমস্যার সমাধান সম্ভব। নতুন নতুন উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে মানুষের কষ্ট লাঘব এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান প্রতিযোগিতার সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।