জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুরে এক ব্যক্তিকে ‘হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে দশম সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।
এদিকে আদালতের আদেশের পর কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সাবেক এই এমপি বলেন, এত মামলা থাকলে কি করে বের হব? মরে গেলে জামিন পাব।
গত বছর ২৩ জুন রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জের নিজ বাড়ি থকে থেকে সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর তাকে শেরেবাংলা নগর থানার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। গত বছরের ৪ এপ্রিল শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করে পুলিশ।
সে মামলার অভিযোগে বলা হয়, সেদিন সকাল ৭টার দিকে যুব মহিলা লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইশরাত জাহান নাসরিনসহ ১৪/১৫ জন এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সামনে মিছিল করেন।
আসামিরা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে উৎসাহিত করতে প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগের দাবি করে দেশের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র করে।
জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে কবির নামের এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গেল ১৯ মে সাবেক এমপি তুহিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এস আ আ রাশেদুল ইসলাম।
আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বৃহস্পতিবার। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়ার পর কারাগারে নেওয়ার পথে তুহিন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার কি ডানা আছে? এক দিনে এত জায়গায় গিয়ে এত কিছু করছি।
তিনি বলেন, আজকে আমার বাচ্চার জন্মদিন। এত মামলা থাকলে কি করে বের হব? মরে গেলে জামিন পাব।
এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহম্মেদের আদালতে সাবেক এই এমপির পক্ষে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বরে কবির ও তার শ্যালক ভ্যানগাড়িতে কাপড় বিক্রি করছিলেন। ওই সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাধারণ ছাত্রদের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করে। এতে আহত হন কবির। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি কবির মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
সাবেক এমপি তুহিন ‘জয় বাংলা ব্রিগেডের’ জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অর্ন্তবর্তী সরকারকে ‘উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলারও আসামি। এ মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জন আসামি। তাদের মধ্যে ৩০ জন কারাগারে রয়েছেন।
সাবিনা আক্তার তুহিন সংরক্ষিত নারী আসন-৩৫ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ২০১৪ সালের মার্চে শপথ নেন।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি যুব মহিলা লীগের এই নেত্রী। পরে সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার আশা পূরণ না হওয়ায় ‘অভিমানে’ রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন তুহিন। পরে ঢাকা-১৪ আসনে যুবলীগ নেতা মাইনুল হোসেন খান নিখিলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তিনি। তবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিখিলই সংসদে যান।
প্রথম ভোর ডেস্ক,ঢাকা 


















