রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আজ বুধবার (১০ মে) ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন উত্তর সিটি করপোরেশন, রাজউক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নিকুঞ্জ এলাকার বনরূপা খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে যৌথ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে বৈঠক করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত ও আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় খালের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা মাটি, অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন তিনি। পরে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
এমপি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “নিকুঞ্জ এলাকার মানুষ বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ সহ্য করে আসছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়, বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এই সমস্যা আর সাময়িকভাবে নয়, স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হবে।”
তিনি বলেন, “বনরূপা খাল খনন ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে নিকুঞ্জসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে উন্নয়নকাজের সুফল মানুষ পুরোপুরি পায়নি। এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, রাজউক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীকে একসঙ্গে নিয়ে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রাজউকের কর্মকর্তারা খাল পুনঃখননের বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরেন। তারা জানান, খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। একইসঙ্গে খালের পানি প্রবাহ সচল রাখতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য অপসারণ এবং ড্রেনেজ সংযোগ উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই নিকুঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করে। এতে যান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং খাল খনন কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।
এসময় উত্তর সিটি করপোরেশন, রাজউক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাফিজুর রহমান 


















