ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদকে আধুনিক বহুতল ভবনে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি দিপুর

নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদকে আধুনিক বহুতল ভবনে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। একই সঙ্গে শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মসজিদেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন এমপি দিপু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি।

এমপি দিপু বলেন, “এই কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সঙ্গে আমার শৈশব ও কৈশোরের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোটবেলা থেকেই আমি এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে মুসল্লির সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে মুসল্লিদের জায়গার সংকট তৈরি হয়। তাই আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদটিকে নতুনভাবে, আরও বৃহৎ পরিসরে ও নান্দনিক ডিজাইনে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য থাকবে শুধু একটি ভবন নির্মাণ নয়, বরং এমন একটি ইসলামী স্থাপনা গড়ে তোলা যা হবে নারায়ণগঞ্জের মানুষের গর্ব। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, পর্যাপ্ত অজুখানা, নারীদের নামাজের ব্যবস্থা, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম, পর্যাপ্ত পার্কিং ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। আমরা চাই এই মসজিদ শহরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পাক।”

এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এই মসজিদের সঙ্গে শহরের মানুষের আবেগ ও ইতিহাস জড়িত। মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মসজিদটি এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে ভবিষ্যতে মুসল্লিদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। খুব দ্রুতই পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।”

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, “এই মসজিদের উন্নয়ন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমানে মুসল্লিদের তুলনায় মসজিদের পরিসর অনেক ছোট হয়ে গেছে। বিশেষ করে জুমার দিন ও রমজান মাসে মুসল্লিদের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা চাই এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ইসলামী কমপ্লেক্সে রূপান্তর করতে।”

তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা ও মুসল্লিদের আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন সবই করা হবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদেরও এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

ঘোষণার পর মুসল্লিদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হলে নারায়ণগঞ্জ শহর একটি আধুনিক ও বৃহৎ কেন্দ্রীয় মসজিদ উপহার পাবে, যা ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি শহরের ঐতিহ্যেরও অংশ হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের প্রস্তুতি, কাল শপথ

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদকে আধুনিক বহুতল ভবনে রূপান্তরের ঘোষণা এমপি দিপুর

প্রকাশ : ০৫:০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদকে আধুনিক বহুতল ভবনে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। একই সঙ্গে শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মসজিদেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন এমপি দিপু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি।

এমপি দিপু বলেন, “এই কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সঙ্গে আমার শৈশব ও কৈশোরের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোটবেলা থেকেই আমি এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে মুসল্লির সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে মুসল্লিদের জায়গার সংকট তৈরি হয়। তাই আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদটিকে নতুনভাবে, আরও বৃহৎ পরিসরে ও নান্দনিক ডিজাইনে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য থাকবে শুধু একটি ভবন নির্মাণ নয়, বরং এমন একটি ইসলামী স্থাপনা গড়ে তোলা যা হবে নারায়ণগঞ্জের মানুষের গর্ব। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, পর্যাপ্ত অজুখানা, নারীদের নামাজের ব্যবস্থা, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম, পর্যাপ্ত পার্কিং ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। আমরা চাই এই মসজিদ শহরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পাক।”

এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এই মসজিদের সঙ্গে শহরের মানুষের আবেগ ও ইতিহাস জড়িত। মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মসজিদটি এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে ভবিষ্যতে মুসল্লিদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। খুব দ্রুতই পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।”

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, “এই মসজিদের উন্নয়ন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমানে মুসল্লিদের তুলনায় মসজিদের পরিসর অনেক ছোট হয়ে গেছে। বিশেষ করে জুমার দিন ও রমজান মাসে মুসল্লিদের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা চাই এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ইসলামী কমপ্লেক্সে রূপান্তর করতে।”

তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা ও মুসল্লিদের আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন সবই করা হবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদেরও এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

ঘোষণার পর মুসল্লিদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হলে নারায়ণগঞ্জ শহর একটি আধুনিক ও বৃহৎ কেন্দ্রীয় মসজিদ উপহার পাবে, যা ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি শহরের ঐতিহ্যেরও অংশ হয়ে থাকবে।