বাড্ডা ডিআইটি খেলার মাঠে আব্দুল হাই–রাবেয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও স্মারক সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, জিপিএ–৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের নয়, পুরো জাতির গর্ব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়নের পরিবর্তে একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় শিক্ষাবান্ধব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে অবৈতনিক শিক্ষা, মেয়েদের শিক্ষা বিস্তার এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছিল। অথচ পরবর্তী শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তোলা হয়। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগ নামক একটি লাঠিয়ান বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে শিক্ষাঙ্গন হবে রাজনীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত। শিক্ষার্থীরা ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে ক্যাম্পাসে যাবে এবং শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে জ্ঞানচর্চা করতে পারবেন।
তিনি বলেন, শুধু ভালো ফল করলেই হবে না—শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
ঢাকা–১১ আসনের গণমানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র যখন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তখন সমাজকেই এগিয়ে আসতে হয়। আব্দুল হাই–রাবেয়া ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—মানুষ চাইলে শিক্ষার পাশে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষানুরাগী ড. এম এ কাইয়ুমের নিজ উদ্যোগে ঢাকা–১১ আসনে বাড্ডা হাই স্কুল, ঢাকা মহানগর কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তিনি তাঁর বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেন আব্দুল হাই–রাবেয়া ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









