আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলার রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ হয়েছে, সেগুলো কীভাবে কার্যকর করা হবে, সেই প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।
সোমবার প্রসিকিউশন কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রুলস অব প্রসিডিউর বা কার্যপ্রণালী বিধি সংশোধন হলে তা শেখ হাসিনার মামলাসহ ইতোমধ্যে হওয়া অন্যান্য রায়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।’’
প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “যেগুলো ইতোমধ্যে জাজমেন্ট হয়ে গেছে, এখন যদি রুলস অব প্রসিডিউরে অ্যামেন্ডমেন্ট হয়, সে অনুযায়ী রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্টে ওই রায়ে একই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে। সেটাতে আইনগত কোনো সমস্যা নাই।”
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের আইনে এবং রুলস অব প্রসিডিউরে কোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বা জরিমানা করার বিষয়টি উল্লেখ আছে। ভিকটিম পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও আছে। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় বাজেয়াপ্ত বা অন্যান্য কার্যক্রম করা হবে, সেটা আমাদের প্রসিডিউরে স্পষ্ট করে বলা নাই।” এ কারণে ট্রাইব্যুনাল-২ এর একটি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় বিষয়টি আদালতের নজরে আনার কথা জানান এই আইনজীবী।
তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে যেসব রায় আসবে সেখানে যেন এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকে। আমাদের প্রচলিত ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট’ বা ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারায়’ বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি বা জরিমানা আদায়ের যে বিধান রয়েছে, রায়ে যদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে (মিউটেটিস মিউটেন্ডিস) ওই আইনগুলো অনুসরণের কথা উল্লেখ থাকে, তবে সরকারের পক্ষে তা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।”
এর বিকল্প হিসেবে ট্রাইব্যুনালের রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের রুলস অব প্রসিডিউরের সংশ্লিষ্ট বিধিটি সংশোধন করে সেখানে বিস্তারিত বিধান উল্লেখ করতে হবে। তাহলে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় যখন সরকার বাস্তবায়ন করতে যাবে, তখন তাদের কাছে স্পষ্ট একটি আইনগত ধারণা থাকলে কাজটা সহজ হবে।”
বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা জানান তিনি।
প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “আমি একটি মামলার আরগুমেন্টে বিষয়টি উল্লেখ করেছি। তারা আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন এবং এ বিষয়ে আমাকে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। কিন্তু সময়ের অভাবে এখন পর্যন্ত আমরা সেই উদ্যোগ নিতে পারিনি।”
সমস্যা সমাধানে সেমিনার আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “দুটি ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারপতিদের সমন্বয়ে আমরা যদি একটি সেমিনারের মাধ্যমে আইনের ত্রুটি বা সুবিধা-অসুবিধাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি, তাহলে বিধি সংশোধনের কাজটা বিচারপতিদের জন্য সহজ হবে।”
সময়ের অভাবে প্রসিকিউশন এখনও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে না পারলেও ট্রাইব্যুনাল নিজেও এমন উদ্যোগ নিতে পারে বলে মত দেন তিনি।
প্রথম ভোর ডেস্ক,ঢাকা 


















