ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যকে গুরুত্ব দিতে নির্বাচনি পর্ষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে ‘নৌ ও বিমান বাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, নির্বাচনি পর্ষদের উদ্বোধনের মাধ্যমে দুই বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল।

এই পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদের যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।

সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই পর্ষদ নৌ ও বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করবে, যা পরে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি পর্ষদকে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তির উপযুক্ততার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

নির্বাচনি পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী সদর দপ্তরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের পাশাপাশি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন।

সেই সঙ্গে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহত সবার অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর যেসব বীর সেনানী দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, জাতি তাদের চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের প্রয়োজনে এই ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।

প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসে আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে (এডিওসি) স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের (এডিএসআই) উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় তিনি নব-উন্মোচিত সিস্টেমটির বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের সাহায্যে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমান ইন্টারসেপশন এবং চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকলের (ইউএভি) লাইভ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার দিয়ে ট্রুপস ইনসার্শন বা সৈন্য নামানোর প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর অ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স (এআরডিসি) এবং সেখানকার বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। সেখানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ড্রোন (কামিকাজে ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএল) প্রদর্শন করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়ন দেখেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিতে এসব আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিআইডি প্রধানের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৬:১৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যকে গুরুত্ব দিতে নির্বাচনি পর্ষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে ‘নৌ ও বিমান বাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, নির্বাচনি পর্ষদের উদ্বোধনের মাধ্যমে দুই বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল।

এই পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদের যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।

সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই পর্ষদ নৌ ও বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করবে, যা পরে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি পর্ষদকে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তির উপযুক্ততার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

নির্বাচনি পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী সদর দপ্তরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের পাশাপাশি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন।

সেই সঙ্গে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহত সবার অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর যেসব বীর সেনানী দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, জাতি তাদের চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের প্রয়োজনে এই ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।

প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসে আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে (এডিওসি) স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের (এডিএসআই) উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় তিনি নব-উন্মোচিত সিস্টেমটির বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের সাহায্যে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমান ইন্টারসেপশন এবং চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকলের (ইউএভি) লাইভ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার দিয়ে ট্রুপস ইনসার্শন বা সৈন্য নামানোর প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর অ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স (এআরডিসি) এবং সেখানকার বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। সেখানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ড্রোন (কামিকাজে ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএল) প্রদর্শন করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়ন দেখেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিতে এসব আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।