নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শিল্পকারখানাগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে পূরণ, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এক বা দুটি শিল্পকারখানায় পরীক্ষামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলস অ্যান্ড পাওয়ারলুম ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসটিএমপিআইএ) এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় রূপগঞ্জের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংগঠনটির সভাপতি গোলাম ফারুক খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা, সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রূপগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদা, কারখানাগুলোর অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কোন কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদ, খোলা জায়গা কিংবা বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব, তা যাচাই করে সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় বলা হয়, শিল্পকারখানায় দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এ সময় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে কারখানার নিজস্ব চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা গেলে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সভায় অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রূপগঞ্জের এক বা দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তব সম্ভাবনা, ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যবস্থায় এর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে রূপগঞ্জের অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কারখানাগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হতে পারে।
শিল্প মালিকদের মতে, বর্তমানে শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ব্যয়। বিদ্যুতের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর উৎপাদন ব্যয় অনেকাংশে নির্ভর করে। নিজস্ব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে কারখানাগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ নিজস্ব উৎস থেকে পেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনার সুযোগ রয়েছে।
সভায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিবেশগত সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে প্রচলিত জ্বালানির ওপর চাপ কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। শিল্পাঞ্চলে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হলে তা টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আলোচনায় আরও বলা হয়, রূপগঞ্জে বিপুলসংখ্যক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে এলে শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে সফল প্রকল্পগুলো অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করবে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সফলভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে রূপগঞ্জে শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের একটি কার্যকর মডেল তৈরি হবে। পরবর্তী সময়ে এ মডেল অনুসরণ করে আরও বেশি শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সভায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অ্যাসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কারখানাভিত্তিক সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, কারিগরি সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ হিসেবে সম্ভাব্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা এবং সেখানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কারিগরি সক্ষমতা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ নিজস্ব উৎস থেকে পূরণ হবে, অন্যদিকে জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ সুরক্ষায়ও তা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম ভোর ডেস্ক,ঢাকা 















