ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে সরকারি খাল সংস্কার শুরু, জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি খাল সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়া খালটি ইউনিয়ন প্রশাসক নূরনবী ভূঁইয়ার নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন এলাকায় খাল সংস্কার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ইউনিয়ন প্রশাসক নূরনবী ভূঁইয়া। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কারকাজ শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানছিব যোবায়ের, ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান, কৃষকদল নেতা মোমেন মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটির বিভিন্ন অংশে মাটি, ময়লা-আবর্জনা ও অন্যান্য বর্জ্য জমে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। কোথাও কোথাও খালের পাড়ও ভেঙে পড়েছে। ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের সড়ক, বসতবাড়ি ও নিচু এলাকায় পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ধীরগতির হওয়ায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় দুর্ভোগ দেখা দেয়।

এ অবস্থায় খালটি পুনরায় সচল করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে খালের নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাল সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে ইউনিয়ন প্রশাসক নূরনবী ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে খাল খনন ও সংস্কারের যে কর্মসূচি শুরু করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা রূপগঞ্জ ইউনিয়নেও মাঠপর্যায়ে কাজ করছি। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নির্দেশনায় এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা শুধু মানুষের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করে না, এটি জনজীবন, কৃষি ও পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। রূপগঞ্জ ইউনিয়নের যেসব খাল ও ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে গেছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

নূরনবী ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘আমরা শুধু খাল সংস্কার করেই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। খাল ও ড্রেনগুলো যাতে ভবিষ্যতে আবার দখল বা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট না হয়, সে বিষয়েও স্থানীয়দের সচেতন করা হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রেখে ইউনিয়নবাসীর নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘রূপগঞ্জ ইউনিয়নবাসীকে সঠিক সেবা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এলাকার মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কাজ করা হবে। জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।’

উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, খালটি সংস্কারের ফলে দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

তারা বলেন, শুধু সংস্কার করলেই হবে না, খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও প্রয়োজন। একই সঙ্গে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অবৈধভাবে খালের জায়গা দখল বন্ধ করা গেলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত নগরায়ণ ও জনবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এখন অনেক এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা। এ পরিস্থিতিতে খাল ও ড্রেন সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাল সংস্কারের এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাল ও ড্রেন সংস্কার করা গেলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমিয়ে জনদুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবহেলিত তলনা-ঢেলনা সড়ক সংস্কারে এমপি জাহাঙ্গীরের উদ্যোগ

রূপগঞ্জে সরকারি খাল সংস্কার শুরু, জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ

প্রকাশ : ০৬:৩২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি খাল সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়া খালটি ইউনিয়ন প্রশাসক নূরনবী ভূঁইয়ার নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন এলাকায় খাল সংস্কার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ইউনিয়ন প্রশাসক নূরনবী ভূঁইয়া। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কারকাজ শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানছিব যোবায়ের, ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান, কৃষকদল নেতা মোমেন মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটির বিভিন্ন অংশে মাটি, ময়লা-আবর্জনা ও অন্যান্য বর্জ্য জমে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। কোথাও কোথাও খালের পাড়ও ভেঙে পড়েছে। ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের সড়ক, বসতবাড়ি ও নিচু এলাকায় পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ধীরগতির হওয়ায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় দুর্ভোগ দেখা দেয়।

এ অবস্থায় খালটি পুনরায় সচল করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে খালের নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাল সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে ইউনিয়ন প্রশাসক নূরনবী ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে খাল খনন ও সংস্কারের যে কর্মসূচি শুরু করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা রূপগঞ্জ ইউনিয়নেও মাঠপর্যায়ে কাজ করছি। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নির্দেশনায় এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা শুধু মানুষের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করে না, এটি জনজীবন, কৃষি ও পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। রূপগঞ্জ ইউনিয়নের যেসব খাল ও ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে গেছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

নূরনবী ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘আমরা শুধু খাল সংস্কার করেই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। খাল ও ড্রেনগুলো যাতে ভবিষ্যতে আবার দখল বা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট না হয়, সে বিষয়েও স্থানীয়দের সচেতন করা হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রেখে ইউনিয়নবাসীর নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘রূপগঞ্জ ইউনিয়নবাসীকে সঠিক সেবা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এলাকার মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কাজ করা হবে। জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।’

উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, খালটি সংস্কারের ফলে দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

তারা বলেন, শুধু সংস্কার করলেই হবে না, খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও প্রয়োজন। একই সঙ্গে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অবৈধভাবে খালের জায়গা দখল বন্ধ করা গেলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত নগরায়ণ ও জনবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এখন অনেক এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা। এ পরিস্থিতিতে খাল ও ড্রেন সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাল সংস্কারের এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাল ও ড্রেন সংস্কার করা গেলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমিয়ে জনদুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।