নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার কারণে জেলা যুবদল নেতা আবু মোহাম্মদ মাসুমকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় এসেছে তার নাম।
আবু মোহাম্মদ মাসুম ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। পরবর্তী সময়ে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রূপগঞ্জের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা গেছে।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলন এবং এর আগে ও পরবর্তী সময়ে রূপগঞ্জে যুবদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে থাকার পাশাপাশি সংগঠনের স্থানীয় কার্যক্রমে সমন্বয়েও ভূমিকা রাখেন তিনি।
দলীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময়ে আবু মাসুমকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করতে হয়েছে। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এসব কারণে দলের তৃণমূল পর্যায়ের একটি অংশের কাছে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন আবু মাসুম। বিভিন্ন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়, শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ক্রীড়া আয়োজন এবং স্থানীয় সামাজিক উদ্যোগে তাকে সম্পৃক্ত হতে দেখা গেছে।
চলতি বছরের মে মাসে রূপগঞ্জের ১৪টি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়, শিক্ষা বিষয়ক ক্যাম্পেইন এবং খাবার বিতরণ কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেন। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ আরও বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রূপগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের আন্দোলন-সংগ্রামেও তার সক্রিয়তার কথা জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। ওই সময়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় কয়েকজনের নাম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসছে। তাদের মধ্যে আবু মোহাম্মদ মাসুমের নামও রয়েছে।
তবে চেয়ারম্যান পদে তার প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তার নাম নিয়ে আলোচনা থাকলেও এটিকে আপাতত সম্ভাব্য প্রার্থিতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার কারণে আবু মাসুমকে ঘিরে এই আলোচনা কতটা রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নেয়, তা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণের ওপর।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা 


















