ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি চূড়ান্ত করল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, যার আওতায় ভবিষ্যতে নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ পেতে পারে সৌদি আরব। তবে এ চুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা শর্তগুলো শিথিল করায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের নতুন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। এরপর এটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।

চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারা অনুযায়ী একটি ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’। এ ধরনের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে। বর্তমানে ৫১টি সরকার ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে এ ধরনের ২৬টি চুক্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে তথাকথিত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ রাখা হয়নি। ওই শর্ত থাকলে সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করতে পারত না—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া চুক্তিতে আইএইএর ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকলে’ যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এই প্রটোকল কার্যকর থাকলে সংস্থাটি কোনো দেশের ঘোষণাবহির্ভূত স্থাপনাতেও আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে পারে।

তবে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, এ চুক্তি পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে সহযোগিতার আইনি সুযোগ তৈরি করলেও সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি বা সক্ষমতা দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য থাকবে না। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে বলে ওয়াশিংটনের আশা। প্রথম দিকের সুবিধাভোগীদের মধ্যে থাকতে পারে মার্কিন কোম্পানি ওয়েস্টিংহাউস। জো বাইডেন প্রশাসনের সময় সৌদি আরবের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির আলোচনা হলেও সেটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন এবার ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্ত থেকে পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়টি আলাদা করেছে।

এই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের কিছু আইনপ্রণেতা এবং ইসরায়েলের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে ভবিষ্যতে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। উদ্বেগের আরেকটি কারণ হল, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে প্রকাশ্যে বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও তা করবে।

রয়টার্স লিখেছে, চুক্তিটি কংগ্রেসে জমা দেওয়ার পর প্রায় ৯০ দিনের পর্যালোচনা চলবে। কংগ্রেস চাইলে যৌথ প্রস্তাব পাস করে এটি আটকে দিতে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের ভিটো ক্ষমতা এড়াতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে। ফলে বাস্তবে চুক্তিটি আটকে দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চনপাড়ার উন্নয়নে বহুতল আবাসনের প্রস্তাব এমপি দিপু ভূঁইয়ার

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি চূড়ান্ত করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ০৪:২৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, যার আওতায় ভবিষ্যতে নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ পেতে পারে সৌদি আরব। তবে এ চুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা শর্তগুলো শিথিল করায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের নতুন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। এরপর এটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।

চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারা অনুযায়ী একটি ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’। এ ধরনের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে। বর্তমানে ৫১টি সরকার ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে এ ধরনের ২৬টি চুক্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে তথাকথিত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ রাখা হয়নি। ওই শর্ত থাকলে সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করতে পারত না—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া চুক্তিতে আইএইএর ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকলে’ যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এই প্রটোকল কার্যকর থাকলে সংস্থাটি কোনো দেশের ঘোষণাবহির্ভূত স্থাপনাতেও আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে পারে।

তবে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, এ চুক্তি পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে সহযোগিতার আইনি সুযোগ তৈরি করলেও সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি বা সক্ষমতা দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য থাকবে না। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে বলে ওয়াশিংটনের আশা। প্রথম দিকের সুবিধাভোগীদের মধ্যে থাকতে পারে মার্কিন কোম্পানি ওয়েস্টিংহাউস। জো বাইডেন প্রশাসনের সময় সৌদি আরবের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির আলোচনা হলেও সেটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন এবার ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্ত থেকে পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়টি আলাদা করেছে।

এই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের কিছু আইনপ্রণেতা এবং ইসরায়েলের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে ভবিষ্যতে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। উদ্বেগের আরেকটি কারণ হল, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে প্রকাশ্যে বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও তা করবে।

রয়টার্স লিখেছে, চুক্তিটি কংগ্রেসে জমা দেওয়ার পর প্রায় ৯০ দিনের পর্যালোচনা চলবে। কংগ্রেস চাইলে যৌথ প্রস্তাব পাস করে এটি আটকে দিতে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের ভিটো ক্ষমতা এড়াতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে। ফলে বাস্তবে চুক্তিটি আটকে দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।