নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু অভিযোগ করেছেন, লাঙ্গলবন্দ তীর্থস্থান উন্নয়নের জন্য বিগত সরকারের আমলে বরাদ্দ দেওয়া ১২১ কোটি টাকার পুরো অর্থই লুটপাট হয়েছে। ওই অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে সেখানে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ হিন্দু তীর্থস্থান হিসেবে লাঙ্গলবন্দে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ পূণ্যার্থীর সমাগম হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেবার মান এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনে স্থানীয় ব্যবসা ডিরেক্টরি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি দিপু বলেন, “লাঙ্গলবন্দে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ স্নান করতে আসেন। এটি শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিত একটি তীর্থস্থান। বিগত সরকারের সময় এর উন্নয়নের জন্য ১২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বরাদ্দের পুরো টাকাই লুটপাট করা হয়েছে। সেখানে কোনো কার্যকর উন্নয়নকাজ হয়নি।”
তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটলেও তীর্থস্থানটির স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপত্তা ও সেবাব্যবস্থার চিত্র উদ্বেগজনক। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় দুই বছর আগে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেখানে খাবার খেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের প্রায় ৫০ জন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনা লাঙ্গলবন্দের অব্যবস্থাপনার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এমপি দিপু আরও বলেন, “প্রতি বছর লাখ লাখ পূণ্যার্থী দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে আসেন। শুধু দেশ নয়, বিদেশ থেকেও অনেক মানুষ লাঙ্গলবন্দে আসেন। তারা আমাদের অতিথি। তাদের নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, লাঙ্গলবন্দ শুধু একটি ধর্মীয় তীর্থস্থান নয়, এটি নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাযথ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করা গেলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নিরাপদ যাতায়াত, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দাবি, লাঙ্গলবন্দের সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। প্রতি বছর যে লাখ লাখ মানুষ এখানে আসেন, তারা যেন নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সম্মানজনক পরিবেশে অবস্থান করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। লাঙ্গলবন্দকে আন্তর্জাতিক মানের তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।”
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা 


















