ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জের জমি ও স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলনের ঘোষণা দিপু ভূঁইয়ার

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া বলেছেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নামে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের ফলে রূপগঞ্জের হাজারো পরিবার তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি ও জমির মালিকানা হারিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও প্লট দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ আজও বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এখন রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও দাউদপুর ইউনিয়নকে ঢাকার প্রশাসনিক আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।

রূপগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিপু ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে যখন পূর্বাচল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, তখন যদি স্থানীয় জনগণ ঢাকা থেকে রূপগঞ্জ পর্যন্ত একটি প্রশস্ত মহাসড়ক নির্মাণের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতেন, তাহলে এত বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতো না। তাঁর ভাষায়, সীমিত পরিসরে সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়ন সম্ভব ছিল, কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি।

দিপু ভূঁইয়া বলেন, “পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য অনেকের শত শত বিঘা, আবার কারও আরও বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তখন জমির মালিকদের একটি করে প্লট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো সেই প্লটের মুখ দেখেনি।”

তিনি অভিযোগ করেন, ভুল পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের কারণে রূপগঞ্জের মানুষ নিজেদের জমির ওপর অধিকার হারিয়েছে। “আজ রূপগঞ্জবাসীর নিজের জমিই আর রূপগঞ্জবাসীর হাতে নেই। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সেই জমির মালিকানা চলে গেছে। সেই সময়ের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত আজও স্থানীয় মানুষকে দিতে হচ্ছে।”

সংসদ সদস্যের দাবি, যদি ১০০ থেকে ৩০০ মিটার প্রশস্ত একটি সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হতো, তাহলে এত বিশাল এলাকা প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু সে সময় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার না করে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।

পূর্বাচলসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোকে ঢাকার আওতায় নেওয়ার সম্ভাব্য উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে দিপু ভূঁইয়া বলেন, “তারা জানে, এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় আন্দোলন আমি করব। এখন শুধু পূর্বাচল নয়, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন এবং দাউদপুর ইউনিয়নকেও ঢাকার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

তিনি বলেন, “প্রয়োজনে রূপগঞ্জের প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে রাজপথে নামতে হবে। আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না। রূপগঞ্জের মানুষের অধিকার রক্ষায় যা কিছু করার প্রয়োজন, আমি তা করব।”

রূপগঞ্জবাসীর প্রতি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সংসদ সদস্য বলেন, “রূপগঞ্জবাসী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের কল্যাণে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও আমি প্রস্তুত। আমাকে যত হুমকিই দেওয়া হোক না কেন, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষ।”

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি, কারও অধিকার নষ্ট করিনি। তাই আমি নির্ভয়ে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করি। আমি জানি, রূপগঞ্জবাসী সবসময় আমার পাশে আছে এবং তাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়েও তারা আমার সঙ্গে থাকবে।”

বক্তব্যের শেষাংশে দিপু ভূঁইয়া রূপগঞ্জের ভূমি, প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য ও স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে স্থানীয় মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে রূপগঞ্জবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তার প্রতিবাদ জানানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জের জমি ও স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলনের ঘোষণা দিপু ভূঁইয়ার

রূপগঞ্জের জমি ও স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলনের ঘোষণা দিপু ভূঁইয়ার

প্রকাশ : ০৯:২২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া বলেছেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নামে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের ফলে রূপগঞ্জের হাজারো পরিবার তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি ও জমির মালিকানা হারিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও প্লট দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ আজও বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এখন রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও দাউদপুর ইউনিয়নকে ঢাকার প্রশাসনিক আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।

রূপগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিপু ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে যখন পূর্বাচল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, তখন যদি স্থানীয় জনগণ ঢাকা থেকে রূপগঞ্জ পর্যন্ত একটি প্রশস্ত মহাসড়ক নির্মাণের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতেন, তাহলে এত বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতো না। তাঁর ভাষায়, সীমিত পরিসরে সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়ন সম্ভব ছিল, কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি।

দিপু ভূঁইয়া বলেন, “পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য অনেকের শত শত বিঘা, আবার কারও আরও বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তখন জমির মালিকদের একটি করে প্লট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো সেই প্লটের মুখ দেখেনি।”

তিনি অভিযোগ করেন, ভুল পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের কারণে রূপগঞ্জের মানুষ নিজেদের জমির ওপর অধিকার হারিয়েছে। “আজ রূপগঞ্জবাসীর নিজের জমিই আর রূপগঞ্জবাসীর হাতে নেই। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সেই জমির মালিকানা চলে গেছে। সেই সময়ের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত আজও স্থানীয় মানুষকে দিতে হচ্ছে।”

সংসদ সদস্যের দাবি, যদি ১০০ থেকে ৩০০ মিটার প্রশস্ত একটি সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হতো, তাহলে এত বিশাল এলাকা প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু সে সময় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার না করে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।

পূর্বাচলসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোকে ঢাকার আওতায় নেওয়ার সম্ভাব্য উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে দিপু ভূঁইয়া বলেন, “তারা জানে, এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় আন্দোলন আমি করব। এখন শুধু পূর্বাচল নয়, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন এবং দাউদপুর ইউনিয়নকেও ঢাকার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

তিনি বলেন, “প্রয়োজনে রূপগঞ্জের প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে রাজপথে নামতে হবে। আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না। রূপগঞ্জের মানুষের অধিকার রক্ষায় যা কিছু করার প্রয়োজন, আমি তা করব।”

রূপগঞ্জবাসীর প্রতি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সংসদ সদস্য বলেন, “রূপগঞ্জবাসী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের কল্যাণে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও আমি প্রস্তুত। আমাকে যত হুমকিই দেওয়া হোক না কেন, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষ।”

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি, কারও অধিকার নষ্ট করিনি। তাই আমি নির্ভয়ে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করি। আমি জানি, রূপগঞ্জবাসী সবসময় আমার পাশে আছে এবং তাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়েও তারা আমার সঙ্গে থাকবে।”

বক্তব্যের শেষাংশে দিপু ভূঁইয়া রূপগঞ্জের ভূমি, প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য ও স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে স্থানীয় মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে রূপগঞ্জবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তার প্রতিবাদ জানানো হবে।