সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান তার নির্দেশ অমান্য করতেন। তবে জিয়াউলের বিষয়ে কোনো তদন্তের জন্য তিনি গোয়েন্দা পরিদপ্তরের কাউকে নির্দেশ দেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জিয়াউলের আইনজীবী আবুল হাসান-এর জেরায় এসব কথা বলেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
জেরার এক পর্যায়ে আইনজীবী আবুল হাসান প্রশ্ন করেন, সেনাপ্রধান হিসেবে জিয়াউল আহসান তার আদেশ অমান্য করেননি—এটি কি সত্য? জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, “এই কথা সত্য নয়।”
তিনি আদালতকে জানান, দুই সেনা কর্মকর্তার অপকর্ম সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু সে সময় র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) হিসেবে কর্মরত জিয়াউল আহসান তাদের ফেরত দেননি। এ ঘটনার পর তাকে সেনানিবাসে ‘পারসন নন গ্রাটা’ (পিএনজি) ঘোষণা করা হয় বলে জানান সাবেক সেনাপ্রধান।
জেরায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকী-র ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, তিনি এখন তা মনে করতে পারছেন না। সেনাপ্রধান থাকাকালে কেনাকাটা সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন। তবে ওই কেনাকাটায় নিজে জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের সদস্যদের নাম মনে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনে নেই। অফিসারদের অবৈধ অর্থের উৎস শনাক্ত করে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “করিনি, কারণ তা আমার এখতিয়ারের বাইরে।”
ক্রসফায়ার বন্ধে কর্নেল মুজিবকে কোনো লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে সাবেক এই সেনাপ্রধান জানান, তিনি মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। ডিজিএফআই কার্যালয়ের সেলে রাজবন্দিদের রাখা হতো কিনা এবং তিনি তা পরিদর্শন করেছেন কিনা—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি ডিজিএফআই অফিসে দুই দিন গিয়েছিলেন, তবে অফিসের ভেতরের সেল পরিদর্শন করেননি।
এছাড়া র্যাবের একটি অভিযানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসা দুই সেনা কর্মকর্তার নাম তার মনে নেই বলেও আদালতে জানান তিনি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয়েছে কিনা তাও তিনি জানেন না।
সবশেষে নিজের জবানবন্দির মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন—এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
প্রথম ভোর ডেস্ক,ঢাকা 













