ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের মালিক জাকারিয়া তাহের এখন মন্ত্রিসভায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির গুলশান কার্যালয়-দলটির নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ২০০৮ সাল থেকে দেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী। দীর্ঘ সময় ধরে নানা চাপ, উত্তেজনা ও সংঘাতের মুহূর্ত পেরিয়েছে এই ঠিকানা।

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে চেয়ারপারসন রোশানলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ বন্দী জীবন কাটিয়েছেন এখানে। একই কার্যালয়ের সামনের অংশে তিনি বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে দেওয়ার ঘটনা সহ নানা রাজনৈতিক উত্তেজনার সাক্ষী ছিলেন। টানা দেড় দশক পুলিশি বেষ্টনীতে আবদ্ধ ছিল এই কার্যালয়।

মালিকানা ও দলীয় ত্যাগ

অনেকেই ধরে নেন বাড়িটির মালিক বিএনপি। তবে তথ্য ভিন্ন। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক জাকারিয়া তাহের, তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী।

২০০৮ সালের চরম প্রতিকূল সময়ে নিজের বাড়ি বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে প্রদান করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের চাপের মধ্যেও কার্যালয় সরানোর সিদ্ধান্ত নেননি জাকারিয়া তাহের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই একনিষ্ঠতার প্রতিদান মন্ত্রিসভার দায়িত্বে এসেছে।

নির্বাচনী সাফল্য ও কুমিল্লা-৮ আসন

কুমিল্লা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আসনের সব কেন্দ্রে বিজয়ী হওয়ায় তিনি এলাকায় অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন।

সম্পদ ও ধন-সম্পদ

নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম শীর্ষ ধনী মন্ত্রীও তিনি। হলফনামা অনুযায়ী, নিজের নামে আছে ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ। এই সম্পদ তাকে মন্ত্রিসভার আলোচিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম করেছে।

ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা

জাকারিয়া তাহের কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে বিএসসি সম্পন্ন করেছেন। তার বাবা প্রয়াত এ কে এম আবু তাহের কুমিল্লা-৮ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

২০০৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে একই প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেও পরাজয়ের মুখ দেখেন। তবে সম্প্রতি কুমিল্লা-৮ আসনে বিশাল ভোট ব্যবধানে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

দলের রাজনীতি ও সামাজিক অবদান

দলীয় রাজনীতিতে জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

তার বাবা এ কে এম আবু তাহের দেশের অন্যতম শিল্পপতি ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন। জাকারিয়া তাহের নিজেও ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে বরুড়ায় তাহের পরিবার পরিচিত ও জনপ্রিয়। জাকারিয়া তাহের মন্ত্রী হওয়ায় এলাকায় উৎসবের আমেজ। স্থানীয়রা আশা করেন, তিনি কুমিল্লা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের মালিক জাকারিয়া তাহের এখন মন্ত্রিসভায়

প্রকাশ : ০৯:৩১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির গুলশান কার্যালয়-দলটির নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ২০০৮ সাল থেকে দেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী। দীর্ঘ সময় ধরে নানা চাপ, উত্তেজনা ও সংঘাতের মুহূর্ত পেরিয়েছে এই ঠিকানা।

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে চেয়ারপারসন রোশানলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ বন্দী জীবন কাটিয়েছেন এখানে। একই কার্যালয়ের সামনের অংশে তিনি বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে দেওয়ার ঘটনা সহ নানা রাজনৈতিক উত্তেজনার সাক্ষী ছিলেন। টানা দেড় দশক পুলিশি বেষ্টনীতে আবদ্ধ ছিল এই কার্যালয়।

মালিকানা ও দলীয় ত্যাগ

অনেকেই ধরে নেন বাড়িটির মালিক বিএনপি। তবে তথ্য ভিন্ন। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক জাকারিয়া তাহের, তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী।

২০০৮ সালের চরম প্রতিকূল সময়ে নিজের বাড়ি বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে প্রদান করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের চাপের মধ্যেও কার্যালয় সরানোর সিদ্ধান্ত নেননি জাকারিয়া তাহের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই একনিষ্ঠতার প্রতিদান মন্ত্রিসভার দায়িত্বে এসেছে।

নির্বাচনী সাফল্য ও কুমিল্লা-৮ আসন

কুমিল্লা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আসনের সব কেন্দ্রে বিজয়ী হওয়ায় তিনি এলাকায় অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন।

সম্পদ ও ধন-সম্পদ

নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম শীর্ষ ধনী মন্ত্রীও তিনি। হলফনামা অনুযায়ী, নিজের নামে আছে ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ। এই সম্পদ তাকে মন্ত্রিসভার আলোচিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম করেছে।

ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা

জাকারিয়া তাহের কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে বিএসসি সম্পন্ন করেছেন। তার বাবা প্রয়াত এ কে এম আবু তাহের কুমিল্লা-৮ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

২০০৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে একই প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেও পরাজয়ের মুখ দেখেন। তবে সম্প্রতি কুমিল্লা-৮ আসনে বিশাল ভোট ব্যবধানে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

দলের রাজনীতি ও সামাজিক অবদান

দলীয় রাজনীতিতে জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

তার বাবা এ কে এম আবু তাহের দেশের অন্যতম শিল্পপতি ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন। জাকারিয়া তাহের নিজেও ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে বরুড়ায় তাহের পরিবার পরিচিত ও জনপ্রিয়। জাকারিয়া তাহের মন্ত্রী হওয়ায় এলাকায় উৎসবের আমেজ। স্থানীয়রা আশা করেন, তিনি কুমিল্লা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।