ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৪:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫৩৬ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও ছয়জনকে হত্যার দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২)-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনাল পলাতক চার আসামির অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়াও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন তিনটি সুস্পষ্ট অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে: ১. উসকানি ও নির্দেশ: ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদকের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন এবং ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ ও প্ররোচনা দেন হানিফ।

২. বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত: হানিফের নির্দেশে ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অপর তিন আসামি সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমান সভা করে নিরীহ ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেন।

৩. ৬ জনকে হত্যা: ৫ আগস্ট আসামিদের সরাসরি নির্দেশে কুষ্টিয়া শহরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র ব্যক্তিরা ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ নিহত হন।

প্রসিকিউশন জানায়, গত বছরের ২৫ মার্চ এ মামলার তদন্ত শুরু হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পর ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিচারকার্যে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সব পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে এটি অন্যতম বড় একটি রায়।

কারিগরি ত্রুটিতে টোকিও থেকে ঢাকাগামী প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে বিলম্ব

জুলাই অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ : ০৪:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও ছয়জনকে হত্যার দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২)-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনাল পলাতক চার আসামির অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়াও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন তিনটি সুস্পষ্ট অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে: ১. উসকানি ও নির্দেশ: ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদকের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন এবং ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ ও প্ররোচনা দেন হানিফ।

২. বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত: হানিফের নির্দেশে ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অপর তিন আসামি সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমান সভা করে নিরীহ ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেন।

৩. ৬ জনকে হত্যা: ৫ আগস্ট আসামিদের সরাসরি নির্দেশে কুষ্টিয়া শহরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র ব্যক্তিরা ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ নিহত হন।

প্রসিকিউশন জানায়, গত বছরের ২৫ মার্চ এ মামলার তদন্ত শুরু হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পর ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিচারকার্যে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সব পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে এটি অন্যতম বড় একটি রায়।