ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান: ইশরাকের কাজকে ‘নেগেটিভ বলা যায় না’, হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৫:১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫১৯ বার পড়া হয়েছে

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সদ্য ইস্তফা দেওয়া ইশরাক হোসেনের ভূমিকাকে ‘নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই’ মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, তার হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো। অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ইশরাক হোসেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা ইশরাকের ইস্তফা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেখেন, এটা তাদের একটা দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তার পরে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটা বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী এটা চেয়েছেন, তার জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন। মাদক তো সমাজ দেহকে শেষ করে ফেলতেছে। তার যেটা করা দরকার ছিল, তিনি বলেছেন যে সেখানে পুলিশ ছিল, ফোর্স ছিল। তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো। এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি তো, একজন প্রতিমন্ত্রী তো। এভাবে যদি আপনি প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র হাতে বহন করেন বা কাউকে এটা দিয়ে তাক করেন। তাহলে তিনি হয়তো ভালো নিয়তে করেছেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নাই। এরা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করবে। যদি আপনি সিভিল অ্যাটিচিউড থেকে নেন, এতটুকুই থাক। কিন্তু তার কাজের ব্যাপারে তো এখানে আপত্তি করার কিছু নেই।

মাদক নিয়ে আপনার বার্তা কী? জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাদক তো আমরা নির্মূল চাই। সংসদে আইন পাস হয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ। আমরা তো নিয়ন্ত্রণ চাই না। আমরা নির্মূল চাই।

মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা কেমন দেখছেন জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, এটা তো আমার পক্ষ থেকে ইশরাকই বলে দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরায় একটি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার ‘শিক্ষা শিবিরে’ যোগ দেন দলের আমির শফিকুর রহমান।

শনিবার বিকালে নিজের ফেইসবুক পেইজে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। একটি ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর এ অভিযান ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরদিন ডিএমপির ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা যেটা দেখেছেন, আমরাও দেখেছি। স্থানীয় ডিসিকে বলা হয়েছে, তিনি পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দেবেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে ডিএমপি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

এরপর রোববার রাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশারককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর খোদ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে ফেইসবুকে শেয়ার করতে দেখা যায়।

এরপর সোমবার সকালে ফেইসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। দুপুরে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।

 

দক্ষিণখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এমপি জাহাঙ্গীর হোসেন

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান: ইশরাকের কাজকে ‘নেগেটিভ বলা যায় না’, হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো

প্রকাশ : ০৫:১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সদ্য ইস্তফা দেওয়া ইশরাক হোসেনের ভূমিকাকে ‘নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই’ মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, তার হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো। অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ইশরাক হোসেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা ইশরাকের ইস্তফা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেখেন, এটা তাদের একটা দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তার পরে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটা বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী এটা চেয়েছেন, তার জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন। মাদক তো সমাজ দেহকে শেষ করে ফেলতেছে। তার যেটা করা দরকার ছিল, তিনি বলেছেন যে সেখানে পুলিশ ছিল, ফোর্স ছিল। তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো। এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি তো, একজন প্রতিমন্ত্রী তো। এভাবে যদি আপনি প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র হাতে বহন করেন বা কাউকে এটা দিয়ে তাক করেন। তাহলে তিনি হয়তো ভালো নিয়তে করেছেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নাই। এরা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করবে। যদি আপনি সিভিল অ্যাটিচিউড থেকে নেন, এতটুকুই থাক। কিন্তু তার কাজের ব্যাপারে তো এখানে আপত্তি করার কিছু নেই।

মাদক নিয়ে আপনার বার্তা কী? জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাদক তো আমরা নির্মূল চাই। সংসদে আইন পাস হয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ। আমরা তো নিয়ন্ত্রণ চাই না। আমরা নির্মূল চাই।

মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা কেমন দেখছেন জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, এটা তো আমার পক্ষ থেকে ইশরাকই বলে দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরায় একটি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার ‘শিক্ষা শিবিরে’ যোগ দেন দলের আমির শফিকুর রহমান।

শনিবার বিকালে নিজের ফেইসবুক পেইজে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। একটি ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর এ অভিযান ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরদিন ডিএমপির ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা যেটা দেখেছেন, আমরাও দেখেছি। স্থানীয় ডিসিকে বলা হয়েছে, তিনি পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দেবেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে ডিএমপি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

এরপর রোববার রাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশারককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর খোদ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে ফেইসবুকে শেয়ার করতে দেখা যায়।

এরপর সোমবার সকালে ফেইসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। দুপুরে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।