ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৫ বছর পেরোলে আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

(ইউএনডিপি), বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আইন পেশার মর্যাদা ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রশাসন বা অন্যান্য চাকরিতে থাকা ব্যক্তিরা অবসরে যাওয়ার পর শেষ বয়সে এসে ওকালতি শুরু করেন। এই প্রথা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “পথ বন্ধ করার জন্য একটা উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বলেছি। ৩৫ বছর পরে যেয়ে আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আমরা প্রফেশনকে এমন একটা জায়গায় আনতে চাচ্ছি।”

দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহি

আইনজীবীদের নীতি-নৈতিকতার প্রসঙ্গ টেনে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ভালো আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি টাকার প্রতি নির্লোভ হওয়া জরুরি। অনেক আইনজীবী বিচারকের খাস কামরায় গিয়ে কথা বলে এসে মক্কেলকে বলেন যে বিচারককে কিনে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “মামলায় জিতলেন, জিতে গেলে পকেটে টাকা রয়ে গেল, আর হেরে গেলে বললেন যে কথা তো দিছিল, হয়নি। ঠিক আছে, আমি দেখি টাকা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করি। এরপরে ওই মক্কেল আপনার পিছন পিছন ঘুরবে, ঘুরে ঘুরে অর্ধেক টাকা ফেরত নেবেন। এই ধরনের ব্যবসা বন্ধ হওয়া দরকার।”

বিচারকদের মত আইনজীবীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে আইনজীবীদের নৈতিকতার দিকে ‘কড়া দৃষ্টি’ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মেধার ভিত্তিতে ৫০০ ইন্টার্ন

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আগামী ৫ বছরে ৫০০ ইন্টার্ন তৈরির লক্ষ্যের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে যুক্ত করা হচ্ছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, “এই ৫০০ ইন্টার্ন রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে আমরা কোনো পিক অ্যান্ড চুজ করব না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধার ভিত্তিতে প্রথম সারিতে যারা আছে তাদেরকে আমরা রিক্রুট করতে বলেছি। যদি আমার মেয়েও থাকে ওখানে, আই হ্যাভ নো স্কোপ টু রিক্রুট হিম ইন দিস প্রসেস।”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারকে আইন পেশায় আগামী দিনের ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সরকার মানবাধিকার কমিশন আইন, ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট প্রণয়ন এবং সাইবার আইনের সংশোধনী নিয়ে কাজ করছে। এসব খসড়া প্রণয়নে ইন্টার্নরা ভূমিকা রাখতে পারে।

সমাজ গঠনে আইনজীবীদের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করে আসাদুজ্জামান বলেন, “একজন আইনজীবীকে শুধু আইন জানলে হবে না; এর পাশাপাশি অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অ্যানাটমিও জানতে হবে।”

পেশাগত সফলতার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “সব মক্কেল টাকা দিতে পারবে না, তাই গরিব মানুষের মামলা বিনা পয়সায় করে দেওয়ার মানসিকতাও আইনজীবীদের থাকতে হবে।”

ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৩৫ বছর পেরোলে আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৫:২৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

(ইউএনডিপি), বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আইন পেশার মর্যাদা ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রশাসন বা অন্যান্য চাকরিতে থাকা ব্যক্তিরা অবসরে যাওয়ার পর শেষ বয়সে এসে ওকালতি শুরু করেন। এই প্রথা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “পথ বন্ধ করার জন্য একটা উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বলেছি। ৩৫ বছর পরে যেয়ে আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আমরা প্রফেশনকে এমন একটা জায়গায় আনতে চাচ্ছি।”

দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহি

আইনজীবীদের নীতি-নৈতিকতার প্রসঙ্গ টেনে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ভালো আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি টাকার প্রতি নির্লোভ হওয়া জরুরি। অনেক আইনজীবী বিচারকের খাস কামরায় গিয়ে কথা বলে এসে মক্কেলকে বলেন যে বিচারককে কিনে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “মামলায় জিতলেন, জিতে গেলে পকেটে টাকা রয়ে গেল, আর হেরে গেলে বললেন যে কথা তো দিছিল, হয়নি। ঠিক আছে, আমি দেখি টাকা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করি। এরপরে ওই মক্কেল আপনার পিছন পিছন ঘুরবে, ঘুরে ঘুরে অর্ধেক টাকা ফেরত নেবেন। এই ধরনের ব্যবসা বন্ধ হওয়া দরকার।”

বিচারকদের মত আইনজীবীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে আইনজীবীদের নৈতিকতার দিকে ‘কড়া দৃষ্টি’ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মেধার ভিত্তিতে ৫০০ ইন্টার্ন

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আগামী ৫ বছরে ৫০০ ইন্টার্ন তৈরির লক্ষ্যের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে যুক্ত করা হচ্ছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, “এই ৫০০ ইন্টার্ন রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে আমরা কোনো পিক অ্যান্ড চুজ করব না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধার ভিত্তিতে প্রথম সারিতে যারা আছে তাদেরকে আমরা রিক্রুট করতে বলেছি। যদি আমার মেয়েও থাকে ওখানে, আই হ্যাভ নো স্কোপ টু রিক্রুট হিম ইন দিস প্রসেস।”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারকে আইন পেশায় আগামী দিনের ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সরকার মানবাধিকার কমিশন আইন, ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট প্রণয়ন এবং সাইবার আইনের সংশোধনী নিয়ে কাজ করছে। এসব খসড়া প্রণয়নে ইন্টার্নরা ভূমিকা রাখতে পারে।

সমাজ গঠনে আইনজীবীদের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করে আসাদুজ্জামান বলেন, “একজন আইনজীবীকে শুধু আইন জানলে হবে না; এর পাশাপাশি অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অ্যানাটমিও জানতে হবে।”

পেশাগত সফলতার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “সব মক্কেল টাকা দিতে পারবে না, তাই গরিব মানুষের মামলা বিনা পয়সায় করে দেওয়ার মানসিকতাও আইনজীবীদের থাকতে হবে।”