ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দখলদার যত ক্ষমতাবানই হোক, নদী-খাল দখল করতে দেওয়া হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যত ক্ষমতাবানই হোক কিংবা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক, নদী ও খালের জমি দখল করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো আপস করা হবে না।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ‘অগ্রণী সেচ প্রকল্প’-এর যাত্রামুড়া পাম্প হাউস, প্রধান নিষ্কাশন খাল এবং রূপসী, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নদী-খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কোথাও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখল থাকলেও তা উচ্ছেদ করা হবে।

‘অগ্রণী সেচ প্রকল্প’-এর ইতিহাস তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী ‘অগ্রণী সেচ প্রকল্প’-এর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জাপানি প্রযুক্তি ও জাইকার সহায়তায় প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। তবে সময়ের সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে প্রকল্পের অনেক জমি ও নিষ্কাশন খাল অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে।

তিনি বলেন, রূপগঞ্জে বর্তমানে প্রায় ৭৪১টি শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও খাল-জলাশয় দখলের কারণে এ এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট তীব্র হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উদ্ধার ও খননকাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে রূপগঞ্জে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি একটি আধুনিক নৌপথও চালু করা সম্ভব হবে। এতে প্রধান সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে, যানজট নিরসনে সহায়তা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ কম সময়ে ও কম খরচে নৌপথে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, নদী-খাল দখলমুক্ত ও সচল রাখা শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কৃষি, নৌযোগাযোগ ও শিল্পাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্যও জরুরি। তাই দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিনসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মাসুদা লাবনীকে প্রাণনাশের হুমকি, ডিআরইউর নিন্দা

দখলদার যত ক্ষমতাবানই হোক, নদী-খাল দখল করতে দেওয়া হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৬:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যত ক্ষমতাবানই হোক কিংবা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক, নদী ও খালের জমি দখল করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো আপস করা হবে না।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ‘অগ্রণী সেচ প্রকল্প’-এর যাত্রামুড়া পাম্প হাউস, প্রধান নিষ্কাশন খাল এবং রূপসী, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নদী-খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কোথাও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখল থাকলেও তা উচ্ছেদ করা হবে।

‘অগ্রণী সেচ প্রকল্প’-এর ইতিহাস তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী ‘অগ্রণী সেচ প্রকল্প’-এর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জাপানি প্রযুক্তি ও জাইকার সহায়তায় প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। তবে সময়ের সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে প্রকল্পের অনেক জমি ও নিষ্কাশন খাল অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে।

তিনি বলেন, রূপগঞ্জে বর্তমানে প্রায় ৭৪১টি শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও খাল-জলাশয় দখলের কারণে এ এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট তীব্র হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উদ্ধার ও খননকাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে রূপগঞ্জে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি একটি আধুনিক নৌপথও চালু করা সম্ভব হবে। এতে প্রধান সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে, যানজট নিরসনে সহায়তা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ কম সময়ে ও কম খরচে নৌপথে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, নদী-খাল দখলমুক্ত ও সচল রাখা শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কৃষি, নৌযোগাযোগ ও শিল্পাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্যও জরুরি। তাই দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিনসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।