একসময় মাদক, ভূমিদস্যুতা ও নানা অপরাধের কারণে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হওয়াও ছিল অনেকের জন্য দুঃসাহসিক। মাদক কারবারিদের দাপট, ভূমি দখল এবং ভেজাল ব্যবসার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করত চরম নিরাপত্তাহীনতা। তবে গত দুই মাসে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। মাদক, ভূমিদস্যু ও ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফিরেছে স্বস্তি—এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।
গজারিয়াপাড়ার সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা রহিমা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আগে খুব ভয় নিয়ে দিন কাটাইতাম। এখন অনেক শান্তি। যারা মানুষরে কষ্ট দিত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় বুকডা জুড়াইয়া গেছে।” একই ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকেও।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মাদক, ভূমিদস্যুতা ও ভেজালবিরোধী অভিযানে জোর দেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা, অবৈধ জমি দখল এবং খাদ্যে ভেজালের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—রূপগঞ্জে কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আপস করা হবে না।
উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৪৫ জন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আস্তানা অনেকটাই গুটিয়ে এসেছে বলে প্রশাসনের দাবি।
শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও নজির স্থাপন করেছেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অসহায়, অসুস্থ ও দুস্থ মানুষ তার দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তিনি অনেক পরিবারকে চিকিৎসা, খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন জানান, উপজেলা প্রশাসনে আগের তুলনায় দালালচক্রের প্রভাব কমেছে। বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি নতুন করে আস্থা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনবান্ধব সেবার মাধ্যমে রূপগঞ্জে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং রূপগঞ্জ একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে।
প্রশাসনের সাম্প্রতিক এসব পদক্ষেপ ও অভিযানের কারণে রূপগঞ্জে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আলোচনায় এখন উঠে আসছে—কঠোর প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি মানবিক নেতৃত্বের এই সমন্বয়ই রূপগঞ্জের পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ ) সংবাদদাতা 

















