ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক, মিলবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন

দেশজুড়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ খুঁজে বের করে এগিয়ে নিতে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম পর্যায়ে ৮ জেলার সব উপজেলায় আবেদন নেওয়া হবে।

দেশের তরুণদের নতুন ব্যবসা ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগকে বিকশিত করতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামে এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, চিহ্নিত করা এবং তাদের অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে মোট ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচিত ও যোগ্য উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে অর্থায়নের ৫০ শতাংশ ঋণ এবং ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশেষ করে ২৮ বছরের কম বয়সী নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এ কর্মসূচিতে বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী তরুণদের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোগ নিয়েও কাজ করছেন এমন উদ্যোক্তারাও এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবেন।

প্রথম পর্যায়ে ৮ জেলার সব উপজেলা

প্রথম পর্যায়ে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণা জেলার সব উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হবে।

প্রথম পর্যায়ের আবেদনের সময়সীমা ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।

এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের অন্যান্য জেলার সব উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যাদের নতুন কোনো ব্যবসায়িক ধারণা রয়েছে কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাময় উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি সুযোগ হিসেবে সামনে এসেছে।

স্বপ্ন আপনার—সঠিক অর্থায়ন ও সহযোগিতায় সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ খুলে দিতে পারে এই উদ্যোগ।

আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন করতে নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে।

আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে—

*জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি;
*সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি;
*দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ, যদি থাকে;
*সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র।

আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা—এমন প্রমাণ হিসেবে নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন

সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দেওয়া যাবে। তবে যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকেই ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

উদ্যোক্তা খোঁজা ও আবেদন গ্রহণের দায়িত্ব থাকবে তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর ওপর। প্রতিটি উপজেলায় তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে। উপজেলা পর্যায়ের আবেদন লিড ব্যাংক এবং জেলার আবেদন জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।

সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে নির্বাচিত একজন উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যেক উদ্যোক্তা ২০ লাখ টাকা পাবেন না। ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন, সম্ভাব্যতা ও প্রস্তাবিত ব্যয় মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণ ও অনুদানের অনুপাত হবে ৫০:৫০। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া যাবে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসায় ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ ও ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন।

তবে কর্মসূচিতে নির্বাচিত হলেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে। কোনো উদ্যোক্তার ঋণের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে এর কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

মিলবে প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক সহায়তা

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে শুধু অর্থায়ন নয়, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়া হবে। প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

নির্বাচিত উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি এবং বাজারসংযোগের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

এ কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো ধরনের তদবির করা যাবে না। তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, সিআইবি ও লেনদেন তদারকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক, মিলবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন

তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক, মিলবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন

প্রকাশ : ০৫:৩২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশজুড়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ খুঁজে বের করে এগিয়ে নিতে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম পর্যায়ে ৮ জেলার সব উপজেলায় আবেদন নেওয়া হবে।

দেশের তরুণদের নতুন ব্যবসা ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগকে বিকশিত করতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামে এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, চিহ্নিত করা এবং তাদের অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে মোট ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচিত ও যোগ্য উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে অর্থায়নের ৫০ শতাংশ ঋণ এবং ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশেষ করে ২৮ বছরের কম বয়সী নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এ কর্মসূচিতে বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী তরুণদের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোগ নিয়েও কাজ করছেন এমন উদ্যোক্তারাও এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবেন।

প্রথম পর্যায়ে ৮ জেলার সব উপজেলা

প্রথম পর্যায়ে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণা জেলার সব উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হবে।

প্রথম পর্যায়ের আবেদনের সময়সীমা ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।

এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের অন্যান্য জেলার সব উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যাদের নতুন কোনো ব্যবসায়িক ধারণা রয়েছে কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাময় উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি সুযোগ হিসেবে সামনে এসেছে।

স্বপ্ন আপনার—সঠিক অর্থায়ন ও সহযোগিতায় সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ খুলে দিতে পারে এই উদ্যোগ।

আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন করতে নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে।

আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে—

*জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি;
*সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি;
*দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ, যদি থাকে;
*সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র।

আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা—এমন প্রমাণ হিসেবে নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন

সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দেওয়া যাবে। তবে যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকেই ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

উদ্যোক্তা খোঁজা ও আবেদন গ্রহণের দায়িত্ব থাকবে তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর ওপর। প্রতিটি উপজেলায় তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে। উপজেলা পর্যায়ের আবেদন লিড ব্যাংক এবং জেলার আবেদন জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।

সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে নির্বাচিত একজন উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যেক উদ্যোক্তা ২০ লাখ টাকা পাবেন না। ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন, সম্ভাব্যতা ও প্রস্তাবিত ব্যয় মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণ ও অনুদানের অনুপাত হবে ৫০:৫০। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া যাবে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসায় ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ ও ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন।

তবে কর্মসূচিতে নির্বাচিত হলেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে। কোনো উদ্যোক্তার ঋণের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে এর কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

মিলবে প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক সহায়তা

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে শুধু অর্থায়ন নয়, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়া হবে। প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

নির্বাচিত উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি এবং বাজারসংযোগের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

এ কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো ধরনের তদবির করা যাবে না। তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, সিআইবি ও লেনদেন তদারকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।