হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এক নাবিক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে ইরানের হরমুজ প্রণালির হেঙ্গাম ও কেশম দ্বীপের উপকূলের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও এবং ইরানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবির বরাতে কেশম শহরের গভর্নর আমির তেইমুরি জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে জাহাজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত এবং তিনজন আহত হন। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
এর আগে রাতভর কেশম দ্বীপের আশপাশে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অন্যদিকে ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে অজ্ঞাত কোনো বস্তু, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হেনেছে।
বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে গত ছয় মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। ইরান দাবি করছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে। বর্তমানে এই পথে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে।
তেহরান নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের কারণ দেখিয়ে এ ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সেবা ফি আরোপেরও চিন্তা করছে। এ অচলাবস্থা নিরসনে আগামীকাল সোমবার ওমানে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, ড্রোন হামলার জেরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গত শনিবার সাময়িকভাবে নিজেদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। গত বৃহস্পতিবার ওই পাইপলাইনে হামলাটি ইরাক থেকে ইরান-সমর্থিত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী চালিয়েছে বলে দাবি রিয়াদ ও বাগদাদের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার আয়ারল্যান্ডে এক মন্তব্যে এর জন্য ‘সম্ভবত ইরানকেই’ দায়ী করেছেন। এ ছাড়া শনিবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া প্রজেক্টাইলের আঘাতে সৌদি আরবের জাজান অঞ্চলে দুজন আহত এবং একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরব উপদ্বীপজুড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকায় গত ছয় মাসে এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।
পাইপলাইন বন্ধ হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান এই অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যার প্রভাবে গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















