বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দলের ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, ১৯৭১ সালের ইতিহাস জাতি কখনো ভুলে যেতে পারে না। সেই সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা জনগণের সামনে স্পষ্ট। তারা ছিল দেশবিরোধী শক্তি এবং পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগী।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ভাটারা নুরেরচালা এলাকায় কিশোরগঞ্জবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “১৯৭১ সালে যারা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠনে সহযোগিতা করেছে এবং হানাদার বাহিনীকে মদদ দিয়েছে তাদের ইতিহাস বিচার করেই আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইয়াহিয়া ও আইয়ুব খানের ক্যাবিনেটে জামায়াতে ইসলামীর চারজন মন্ত্রী ছিল এটাই তাদের প্রকৃত অবস্থান প্রমাণ করে।”
তিনি বলেন, “আমরা বিএনপি দেখেছি, আওয়ামী লীগ দেখেছি, লাঙ্গল দেখেছি এবার জামায়াতকে দেখার সময় এসেছে। জনগণকে ইতিহাস মনে রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দাঁড়ি-টুপি পড়লেই কেউ প্রকৃত মুসলমান হয়ে যায় না। মুসলমান হতে হলে নামাজ আদায় করতে হয়, ইমান ঠিক রাখতে হয় এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হয়। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা জনগণ আর মেনে নেবে না।”
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, তিনি প্রতিহিংসা বা বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। “আমি চাই সৌহার্দপূর্ণ ও ভদ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ঢাকা-১১ আসনে যে দলই নির্বাচিত হোক না কেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্যের রাজনীতিই আমাদের লক্ষ্য।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনের সব আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা বিএনপি সমর্থন করে না। “আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি,” যোগ করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘদিন দেশে ভোটাধিকার ছিল না, আইনের শাসন কার্যত অনুপস্থিত ছিল এবং বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। গুম, খুন, ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নের রাজত্ব কায়েম ছিল। “জনগণ এসব আর দেখতে চায় না। এখন রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে, আর সেই পরিবর্তন আসতে হবে ব্যালটের মাধ্যমে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটাতে হবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 









