ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার দিপু ভূঁইয়ার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির গণমিছিল ও সমাবেশে শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পরে দিপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি বিশাল গণমিছিল উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিপু ভূঁইয়া বলেন, “আমরা সবসময় শহীদদের পরিবারের পাশে থাকব। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ ফিরে পেয়েছি, তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আমরা তাদের খোঁজখবর রাখব এবং সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

তিনি বলেন, “আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের দলের অসংখ্য নেতাকর্মী, ছাত্র-যুবক এবং নিরীহ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। শহীদদের এই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়।”

আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই আন্দোলনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন আমাদের দেশনায়ক তারেক রহমান। তিনি আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন—শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফেরা যাবে না। আমরা সেই নির্দেশনা মেনে রাজপথে ছিলাম এবং জনগণের আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছি।”

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সব প্রতিকূলতার মধ্যেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছে। আজকের এই দিনে তাঁর কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে।”

রূপগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে দিপু ভূঁইয়া বলেন, “আপনারা রূপগঞ্জে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করেছেন। আপনাদের এই ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাব।”

সমাবেশ শেষে দিপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি বিশাল গণমিছিল বের হয়। মিছিলে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র, শহীদদের স্মরণ এবং দলীয় বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গণমিছিলকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন। কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর নেতাকর্মীরা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।

জনপ্রিয় সংবাদ

Exploring the Rise of Crypto in iGaming

শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার দিপু ভূঁইয়ার

প্রকাশ : ০৫:৫৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির গণমিছিল ও সমাবেশে শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পরে দিপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি বিশাল গণমিছিল উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিপু ভূঁইয়া বলেন, “আমরা সবসময় শহীদদের পরিবারের পাশে থাকব। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ ফিরে পেয়েছি, তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আমরা তাদের খোঁজখবর রাখব এবং সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

তিনি বলেন, “আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের দলের অসংখ্য নেতাকর্মী, ছাত্র-যুবক এবং নিরীহ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। শহীদদের এই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়।”

আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই আন্দোলনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন আমাদের দেশনায়ক তারেক রহমান। তিনি আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন—শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফেরা যাবে না। আমরা সেই নির্দেশনা মেনে রাজপথে ছিলাম এবং জনগণের আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছি।”

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সব প্রতিকূলতার মধ্যেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছে। আজকের এই দিনে তাঁর কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে।”

রূপগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে দিপু ভূঁইয়া বলেন, “আপনারা রূপগঞ্জে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করেছেন। আপনাদের এই ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাব।”

সমাবেশ শেষে দিপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি বিশাল গণমিছিল বের হয়। মিছিলে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র, শহীদদের স্মরণ এবং দলীয় বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গণমিছিলকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন। কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর নেতাকর্মীরা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।