নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত মেট্রোরেল স্টেশন স্থাপনের দাবিতে দেওয়া ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) লেটারের পর সরকারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এমআরটি (ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট) লাইন প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ জেলাকে পুনরায় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠিটি পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিস।
গত ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ডিও লেটারটি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল সম্প্রসারণের দাবিটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি প্রক্রিয়ার অংশ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে নারায়ণগঞ্জবাসী, শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। ওই চিঠিতে তিনি এমআরটি লাইন প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে চাষাঢ়া এবং কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় মেট্রোরেল স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ। প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যাতায়াত করেন। এছাড়া তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, বস্ত্র, পাট, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারণে জেলার অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সড়কপথে তীব্র যানজট, দীর্ঘ যাতায়াত সময় এবং পরিবহন সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হলে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এতে যাত্রীদের যাতায়াত সময় কমবে, সড়কের ওপর চাপ হ্রাস পাবে, যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নগর উন্নয়নেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সময়ের দাবি। রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিস থেকে ডিও লেটারটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর বিষয়টিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নারায়ণগঞ্জকে এমআরটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং চাষাঢ়া থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত মেট্রোরেল স্টেশন স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে।
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা 


















