ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তুরাগ নদীতে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ; পুলিশ বলছে অতিরঞ্জিত তথ্যের প্রমাণ মেলেনি

এমপি এস এম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ

  • হাফিজুর রহমান
  • প্রকাশ : ০৮:১২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ২৫১৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, ‘Ajker Kantho–আজকের কণ্ঠ’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমপি জাহাঙ্গীরের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন একজন ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২২ জুন আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট এলাকায়। ওইদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী নৌকাযোগে তুরাগের বেরিবাঁধ এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় আতঙ্কে কয়েকজন তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দেন। পরদিন নদী থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন তুরাগ এলাকার সুমন এবং রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আরিফুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, নদীর তীব্র স্রোতে তারা ডুবে মারা যান। মাঠপর্যায়ের তদন্তে জানা গেছে, নিহতরা সাঁতার জানতেন না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, ঘটনার সময় নৌকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ছিলেন। পুলিশ সাতজনকে আটক করে এবং বাকিরা সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করেন। পরদিন দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনের নিখোঁজ ও অধিকসংখ্যক মৃত্যুর দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট ও অনলাইন প্রতিবেদনের প্রচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে দায়ী করে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপি নেতারা দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব পোস্টের মাধ্যমে মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সমর্থক একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে বিএনপি এবং সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অতিরঞ্জিত হতাহতের তথ্য ও নানা ধরনের দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তার পক্ষে মাঠপর্যায়ের তদন্তে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার কিংবা আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আটক সাতজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন অংশগ্রহণকারীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়। তারা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন এবং গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি এস এম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ

তুরাগ নদীতে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ; পুলিশ বলছে অতিরঞ্জিত তথ্যের প্রমাণ মেলেনি

এমপি এস এম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ

প্রকাশ : ০৮:১২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, ‘Ajker Kantho–আজকের কণ্ঠ’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমপি জাহাঙ্গীরের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন একজন ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২২ জুন আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট এলাকায়। ওইদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী নৌকাযোগে তুরাগের বেরিবাঁধ এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় আতঙ্কে কয়েকজন তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দেন। পরদিন নদী থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন তুরাগ এলাকার সুমন এবং রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আরিফুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, নদীর তীব্র স্রোতে তারা ডুবে মারা যান। মাঠপর্যায়ের তদন্তে জানা গেছে, নিহতরা সাঁতার জানতেন না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, ঘটনার সময় নৌকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ছিলেন। পুলিশ সাতজনকে আটক করে এবং বাকিরা সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করেন। পরদিন দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনের নিখোঁজ ও অধিকসংখ্যক মৃত্যুর দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট ও অনলাইন প্রতিবেদনের প্রচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে দায়ী করে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপি নেতারা দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব পোস্টের মাধ্যমে মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সমর্থক একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে বিএনপি এবং সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অতিরঞ্জিত হতাহতের তথ্য ও নানা ধরনের দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তার পক্ষে মাঠপর্যায়ের তদন্তে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার কিংবা আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আটক সাতজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন অংশগ্রহণকারীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়। তারা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন এবং গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।