ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ২

নরসিংদীতে ৩ মাস বয়সের ১ শিশুর পা মোচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের ৩ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ, এ ঘটনার ২ জন আটক রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২) পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার চাঁনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। তারা এক সাথে চলে, এক সাথে কাজ করে তারা কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছে না। এটা একটা নিষ্ঠুর আচরণ রাষ্ট্রতো দ্বায়িত্ব নিবেই। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা সমাজ সেবা অফিসার বাদি হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেছে। এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আজ বাচ্চাকে জেলা হাসপাতালে পাঠাচ্ছি তারা এক্সরে করে মতামত দিবে। তবে পরিবারের দাবি পা ভাঙেনি।

প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে ৩ মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করে রাখেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসির তথ্যমতে, শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয়। শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

তবে তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। শাশুড়ি শেফালী বেগম প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং ঘটনার সাথে সম্পৃকতা না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ২ জন আটক রয়েছে। অন্যদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের তালিকা প্রণয়নে রাজনীতি হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ২

প্রকাশ : ০৫:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীতে ৩ মাস বয়সের ১ শিশুর পা মোচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের ৩ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ, এ ঘটনার ২ জন আটক রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২) পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার চাঁনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। তারা এক সাথে চলে, এক সাথে কাজ করে তারা কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছে না। এটা একটা নিষ্ঠুর আচরণ রাষ্ট্রতো দ্বায়িত্ব নিবেই। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা সমাজ সেবা অফিসার বাদি হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেছে। এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আজ বাচ্চাকে জেলা হাসপাতালে পাঠাচ্ছি তারা এক্সরে করে মতামত দিবে। তবে পরিবারের দাবি পা ভাঙেনি।

প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে ৩ মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করে রাখেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসির তথ্যমতে, শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয়। শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

তবে তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। শাশুড়ি শেফালী বেগম প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং ঘটনার সাথে সম্পৃকতা না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ২ জন আটক রয়েছে। অন্যদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।