ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাটিং বিপর্যয়ে শেষ ম্যাচেও বাংলাদেশের হার

আগের ম্যাচের উইকেটেই খেলা। সেদিন দুই দলের রান ছিল দুইশর কাছাকাছি। সেই ২ ব্যাটিং স্বর্গেল এবার এবার মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দলের ব্যাটসম্যানরা প্রতিযোগিতায় নামলেন, কে কার চেয়ে খারাপ শট খেলতে পারে! আগেই সিরিজ হেরে যাওয়া দল শেষ ম্যাচটিতে হেরে গেল আরও বাজেভাবে।

ওয়ানডে সিরিজে হেরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল বাংলাদেশকে। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষটি তারা জিতে নিল ৭ উইকেটে।

চট্টগ্রামে রোববার বাংলাদেশ ২০ ওভার খেলে করতে পারে মোটে ১০৯ রান। অর্ধেকের বেশি রান একাই করেন তাওহিদ হৃদয়। লিটন দাসের চোটে এই সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৬১ রানে।

উইকেট যে আসলে ব্যাটিংয়ের জন্য কতটা ভালো, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে ম্যাচের পরের ভাগে। রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ানরা জিতে যায় স্রেফ ১১ ওভারেই। আগের দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ অধিনায়ক মিচেল মার্শ এবার করেন ২৭ বলে ৬০।

ম্যাচের সেরা যদিও স্পেন্সার জনসন। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পুরো চার ওভার বোলিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে মিত্যবয়ী বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। বাংলাদেশের বিপক্ষেও এটি যৌথভাবে সবচেয়ে কিপটে বোলিং (ড্যানিয়ল ভেটোরির সঙ্গে)।

একাদশে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় কিছুটা দুর্ভাগ্যের থাবায়। সাইফ হাসানের শটে বোলার জনসনের হাত ছুঁয়ে বল লাগে বোলিং প্রান্তের স্টাম্পে, ব্যাটসম্যান তানজিদ তখন ক্রিজের সামান্য বাইরে।

অমন রান আউটে শুরুর পর ওই ওভারেই বাজে শটে উইকেট হারান সাইফ। ৯ বল খেলে তিনি করতে পারেন স্রেফ ১ রান।

তিনে নামা পারভেজ হোসেনের অবস্থা ছিল আর শোচনীয়। কোনোভাবেই রান বের করতে পারছিলেন না তিনি। হাঁসফাঁস করে শেষ পর্যন্ত ১৩ বলে ১ রান করে উইকেট বিলিয়ে ফেরেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১০ বা এর বেশি বল খেলে সবচেয়ে কম রানের রেকর্ড এটি।

পাঁচ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান তখন ৩ উইকেটে ১১। পরের ওভারে দুটি চার আসে। তার পরও পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মোটে ২২। আগের ম্যাচে যা ছিল ৭২।

পাওয়ার প্লে শেষে নিখিল চৌধুরিকে ছক্কা মেরে খেলার ধারা বদলের ইঙ্গিত দেন হৃদয়। কিন্তু আরেকপ্রান্তে সঙ্গী পেলে তো!

অ্যাডাম জ্যাম্পার প্রথম ওভারে দৃষ্টিকটূ পজিশনে গিয়ে বোল্ড হন একাদশে ফেরা নুরুল হাসান সোহান (৮ বলে ৬)।

পরের ওভারে জনসনের আলগা ডেলিভারিতে আরও আলগা শটে উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন শামীম হোসেন (৫ বলে ০)। সিরিজের তিন ম্যাচ মিলিয়ে তার রান ১৭ বলে ৮!

এরপর হৃদয়কে কিছুটা সঙ্গ দেন রিশাদ হোসেন। যদিও তা দীর্ঘ হয়নি। একটি করে ছক্কা ও চারের পর রিশাদ ফিরতি ক্যাচ দেন নিখিলকে।

এই জুটির ২৬ রানই দলের সর্বোচ্চ।

পরের ওভারে যখন নাসুম আহমেদও বিদায় নিলেন, ৬৫ রানে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশের জন্য ১০০ তখন অনেক দূরের পথ।

লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে লড়াই করে দলকে তবু একশ পার করান হৃদয়। শেষ দিকে জ্যাম্পা ও ন্যাথান এলিসের বলে ছক্কা মারেন তিনি। তিনটি করে চার ও ছক্কায় শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫১ বলে ৬১ রান করে। রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ানরা এগিয়ে যায় যেন স্রেফ তুড়ি বাজিয়েই। মার্শ ও জশ ইংলিস মিলে শুরু করেন শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভারে চার বাউন্ডারিতে। পরে তাসকিনের ওভারে চারটি চার মারেন মার্শ।

আরেক প্রান্তে নাসুম আহমেদ একটু আটকে রাখতে পারেন রানের গতি। জশ ইংলিসের (১৭) উইকেটও আদায় করে নেন তিনি। কিন্তু অন্য প্রান্তে রানের স্রোত বইতে থাকে। নাহিদ রানার ওভারে মার্শ ও কুপার কনোলি মিলে তিন চার ও এক ছক্কায় নেন ২০ রান।

রিশাদের বলে ছক্কায় মার্শ ফিফটিতে পা রাখেন ২৩ বলে।

পরের ওভারে শরিফুলকে ছক্কা মেরে আরেকটির চেষ্টায় আউট হন মার্শ। জয়ের কাছে গিয়ে বড় শটের চেষ্টায় বিদায় নেন কনোলিও।

তবে তিন বলের মধ্যে রিশাদকে দুটি ছক্কায় ম্যাচ শেষ করে দেন টিম ডেভিড।

বাংলাদেশের পরের অভিযান জিম্বাবুয়েতে। আগামী রোববার থেকেই শুরু হারারে টেস্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৮ (তানজিদ ৫, সাইফ ১, পারভেজ ১, হৃদয় ৬১*, সোহান ৬, শামীম ০, রিশাদ ১৬, নাসুম ০, শরিফুল ৭, তাসকিন ২*; নিখিল ৪-০-২৭-১, জনসন ৪-০-৬-২, এলিস ৪-০-২১-২, ডেভিস ২-০-২০-০, জ‍্যাম্পা ৪-১-২২-১, রেনশ ১-০-৪-০, হার্ডি ১-০-৪-০)।

অস্ট্রেলিয়া: ১১ ওভারে ১১২/৩ (মার্শ ৬০, ইংলিস ১৭, কনোলি ১৫, রেনশ ৬*, ডেভিড ১২*; শরিফুল ২-০-২৬-১, নাসুম ৩-০-১০-১, তাসকিন ২-০-২৭-০, নাহিদ ১-০-২০-০, রিশাদ ২-০-২২-১, সাইফ ১-০-৬-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: স্পেন্সার জনসন।

ম্যান অব দা সিরিজ: ম্যাট রেনশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন বৃহস্পতিবার

ব্যাটিং বিপর্যয়ে শেষ ম্যাচেও বাংলাদেশের হার

প্রকাশ : ০৫:১৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

আগের ম্যাচের উইকেটেই খেলা। সেদিন দুই দলের রান ছিল দুইশর কাছাকাছি। সেই ২ ব্যাটিং স্বর্গেল এবার এবার মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দলের ব্যাটসম্যানরা প্রতিযোগিতায় নামলেন, কে কার চেয়ে খারাপ শট খেলতে পারে! আগেই সিরিজ হেরে যাওয়া দল শেষ ম্যাচটিতে হেরে গেল আরও বাজেভাবে।

ওয়ানডে সিরিজে হেরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল বাংলাদেশকে। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষটি তারা জিতে নিল ৭ উইকেটে।

চট্টগ্রামে রোববার বাংলাদেশ ২০ ওভার খেলে করতে পারে মোটে ১০৯ রান। অর্ধেকের বেশি রান একাই করেন তাওহিদ হৃদয়। লিটন দাসের চোটে এই সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৬১ রানে।

উইকেট যে আসলে ব্যাটিংয়ের জন্য কতটা ভালো, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে ম্যাচের পরের ভাগে। রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ানরা জিতে যায় স্রেফ ১১ ওভারেই। আগের দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ অধিনায়ক মিচেল মার্শ এবার করেন ২৭ বলে ৬০।

ম্যাচের সেরা যদিও স্পেন্সার জনসন। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পুরো চার ওভার বোলিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে মিত্যবয়ী বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। বাংলাদেশের বিপক্ষেও এটি যৌথভাবে সবচেয়ে কিপটে বোলিং (ড্যানিয়ল ভেটোরির সঙ্গে)।

একাদশে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় কিছুটা দুর্ভাগ্যের থাবায়। সাইফ হাসানের শটে বোলার জনসনের হাত ছুঁয়ে বল লাগে বোলিং প্রান্তের স্টাম্পে, ব্যাটসম্যান তানজিদ তখন ক্রিজের সামান্য বাইরে।

অমন রান আউটে শুরুর পর ওই ওভারেই বাজে শটে উইকেট হারান সাইফ। ৯ বল খেলে তিনি করতে পারেন স্রেফ ১ রান।

তিনে নামা পারভেজ হোসেনের অবস্থা ছিল আর শোচনীয়। কোনোভাবেই রান বের করতে পারছিলেন না তিনি। হাঁসফাঁস করে শেষ পর্যন্ত ১৩ বলে ১ রান করে উইকেট বিলিয়ে ফেরেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১০ বা এর বেশি বল খেলে সবচেয়ে কম রানের রেকর্ড এটি।

পাঁচ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান তখন ৩ উইকেটে ১১। পরের ওভারে দুটি চার আসে। তার পরও পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মোটে ২২। আগের ম্যাচে যা ছিল ৭২।

পাওয়ার প্লে শেষে নিখিল চৌধুরিকে ছক্কা মেরে খেলার ধারা বদলের ইঙ্গিত দেন হৃদয়। কিন্তু আরেকপ্রান্তে সঙ্গী পেলে তো!

অ্যাডাম জ্যাম্পার প্রথম ওভারে দৃষ্টিকটূ পজিশনে গিয়ে বোল্ড হন একাদশে ফেরা নুরুল হাসান সোহান (৮ বলে ৬)।

পরের ওভারে জনসনের আলগা ডেলিভারিতে আরও আলগা শটে উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন শামীম হোসেন (৫ বলে ০)। সিরিজের তিন ম্যাচ মিলিয়ে তার রান ১৭ বলে ৮!

এরপর হৃদয়কে কিছুটা সঙ্গ দেন রিশাদ হোসেন। যদিও তা দীর্ঘ হয়নি। একটি করে ছক্কা ও চারের পর রিশাদ ফিরতি ক্যাচ দেন নিখিলকে।

এই জুটির ২৬ রানই দলের সর্বোচ্চ।

পরের ওভারে যখন নাসুম আহমেদও বিদায় নিলেন, ৬৫ রানে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশের জন্য ১০০ তখন অনেক দূরের পথ।

লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে লড়াই করে দলকে তবু একশ পার করান হৃদয়। শেষ দিকে জ্যাম্পা ও ন্যাথান এলিসের বলে ছক্কা মারেন তিনি। তিনটি করে চার ও ছক্কায় শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫১ বলে ৬১ রান করে। রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ানরা এগিয়ে যায় যেন স্রেফ তুড়ি বাজিয়েই। মার্শ ও জশ ইংলিস মিলে শুরু করেন শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভারে চার বাউন্ডারিতে। পরে তাসকিনের ওভারে চারটি চার মারেন মার্শ।

আরেক প্রান্তে নাসুম আহমেদ একটু আটকে রাখতে পারেন রানের গতি। জশ ইংলিসের (১৭) উইকেটও আদায় করে নেন তিনি। কিন্তু অন্য প্রান্তে রানের স্রোত বইতে থাকে। নাহিদ রানার ওভারে মার্শ ও কুপার কনোলি মিলে তিন চার ও এক ছক্কায় নেন ২০ রান।

রিশাদের বলে ছক্কায় মার্শ ফিফটিতে পা রাখেন ২৩ বলে।

পরের ওভারে শরিফুলকে ছক্কা মেরে আরেকটির চেষ্টায় আউট হন মার্শ। জয়ের কাছে গিয়ে বড় শটের চেষ্টায় বিদায় নেন কনোলিও।

তবে তিন বলের মধ্যে রিশাদকে দুটি ছক্কায় ম্যাচ শেষ করে দেন টিম ডেভিড।

বাংলাদেশের পরের অভিযান জিম্বাবুয়েতে। আগামী রোববার থেকেই শুরু হারারে টেস্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৮ (তানজিদ ৫, সাইফ ১, পারভেজ ১, হৃদয় ৬১*, সোহান ৬, শামীম ০, রিশাদ ১৬, নাসুম ০, শরিফুল ৭, তাসকিন ২*; নিখিল ৪-০-২৭-১, জনসন ৪-০-৬-২, এলিস ৪-০-২১-২, ডেভিস ২-০-২০-০, জ‍্যাম্পা ৪-১-২২-১, রেনশ ১-০-৪-০, হার্ডি ১-০-৪-০)।

অস্ট্রেলিয়া: ১১ ওভারে ১১২/৩ (মার্শ ৬০, ইংলিস ১৭, কনোলি ১৫, রেনশ ৬*, ডেভিড ১২*; শরিফুল ২-০-২৬-১, নাসুম ৩-০-১০-১, তাসকিন ২-০-২৭-০, নাহিদ ১-০-২০-০, রিশাদ ২-০-২২-১, সাইফ ১-০-৬-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: স্পেন্সার জনসন।

ম্যান অব দা সিরিজ: ম্যাট রেনশ।