ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, দুশ্চিন্তায় জেলেরা

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান। এ সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় সংসার চালানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পদ্মাপাড়ের জেলেরা। একদিকে সহায়তা থেকে বঞ্চনা, অন্যদিকে বিকল্প আয়ের অভাব সব মিলিয়ে সংকটময় পরিস্থিতি পার করছেন তারা।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলার সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারের সঙ্গে যুক্ত কার্ডধারী জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৩০৪ জন। তবে এবার ভিজিএফের চাল বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৫ হাজার ৫৯২ জনের জন্য। ফলে ৭১২ জন কার্ডধারী প্রকৃত ইলিশ জেলেও সরকারি এই চাল সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নিষেধাজ্ঞার আগে নৌকা ও জাল মেরামতে ব্যস্ত থাকা জেলেদের প্রধান অভিযোগ ‘জেলে কার্ড’ বণ্টন নিয়ে। জমির হালদার, শুকচান হালদার ও ইদ্রিস ব্যাপারীর মতো অনেক প্রকৃত জেলে বছরের পর বছর মাছ ধরলেও তাদের কোনো কার্ড হয়নি। অন্যদিকে মাছ না ধরেও অনেকে জেলে কার্ড ও সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কার্ডধারী জেলে ইয়াকুব আলী জানান, সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে বড় পরিবার চালানো কঠিন। পর্যাপ্ত সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকলে পেটের দায়ে অনেককে বাধ্য হয়ে লুকিয়ে নদীতে নামতে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন জেলেরা।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক জানান, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার এই ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অমৎস্যজীবীদের কার্ড পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি বছর তালিকা হালনাগাদ করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নতুন প্রকৃত জেলেদের কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান পুরোপুরি সফল করতে প্রকৃত জেলেদের তালিকা নির্ভুলভাবে হালনাগাদ করা, পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। এতে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নদীতে নামার প্রবণতা কমে আসবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প বাস্তবায়নে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ এমপি দিপু ভূঁইয়ার

ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, দুশ্চিন্তায় জেলেরা

প্রকাশ : ০৩:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান। এ সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় সংসার চালানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পদ্মাপাড়ের জেলেরা। একদিকে সহায়তা থেকে বঞ্চনা, অন্যদিকে বিকল্প আয়ের অভাব সব মিলিয়ে সংকটময় পরিস্থিতি পার করছেন তারা।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলার সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারের সঙ্গে যুক্ত কার্ডধারী জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৩০৪ জন। তবে এবার ভিজিএফের চাল বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৫ হাজার ৫৯২ জনের জন্য। ফলে ৭১২ জন কার্ডধারী প্রকৃত ইলিশ জেলেও সরকারি এই চাল সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নিষেধাজ্ঞার আগে নৌকা ও জাল মেরামতে ব্যস্ত থাকা জেলেদের প্রধান অভিযোগ ‘জেলে কার্ড’ বণ্টন নিয়ে। জমির হালদার, শুকচান হালদার ও ইদ্রিস ব্যাপারীর মতো অনেক প্রকৃত জেলে বছরের পর বছর মাছ ধরলেও তাদের কোনো কার্ড হয়নি। অন্যদিকে মাছ না ধরেও অনেকে জেলে কার্ড ও সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কার্ডধারী জেলে ইয়াকুব আলী জানান, সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে বড় পরিবার চালানো কঠিন। পর্যাপ্ত সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকলে পেটের দায়ে অনেককে বাধ্য হয়ে লুকিয়ে নদীতে নামতে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন জেলেরা।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক জানান, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার এই ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অমৎস্যজীবীদের কার্ড পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি বছর তালিকা হালনাগাদ করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নতুন প্রকৃত জেলেদের কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান পুরোপুরি সফল করতে প্রকৃত জেলেদের তালিকা নির্ভুলভাবে হালনাগাদ করা, পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। এতে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নদীতে নামার প্রবণতা কমে আসবে।