ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশ্রয় দেওয়ার প্রলোভনে সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঘরভাড়া দিতে না পেরে উচ্ছেদ হওয়া এক অসহায় নারীকে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুসন্তানের সামনেই ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে বিচার চাইলে তারা মাত্র ৫০০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেন।

এতে চরম হতাশ ও অপমানিত হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই নারী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। গত মঙ্গলবার রাতে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এই পাশবিক ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই নারী (২৫) জানান, স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরে একটি ভাড়া ঘরে থাকতেন এবং ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাকে সন্তানদেরসহ বের করে দেন। নিরুপায় হয়ে তিনি মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসড়কের নিচে বসে ছিলেন।

এ সময় নেত্রকোনার বাসিন্দা ও স্থানীয় পানদোকানি সোহরাব হোসেন সেখানে এসে তার সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও আর্থিক সহায়তার কথা বলে তাকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই নারী বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’

নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ওই নারী স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচার দাবি করেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কোনো বিচার না করে উল্টো তার হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেন।

বিচার না পেয়ে চরম হতাশায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তিনি। এ সময় আশপাশের লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি পানের আড়তে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ওই নারী ও উপস্থিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে। পরে ওই নারীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম শুক্রবার সকালে জানান, ধর্ষণের ঘটনায় একজনকে আসামি করে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পানদোকানি সোহরাব হোসেন পলাতক, তাকে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে আবু মোহাম্মদ মাছুম, দিলেন নতুন প্রতিশ্রুতি

আশ্রয় দেওয়ার প্রলোভনে সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণ

প্রকাশ : ০৫:৩২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঘরভাড়া দিতে না পেরে উচ্ছেদ হওয়া এক অসহায় নারীকে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুসন্তানের সামনেই ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে বিচার চাইলে তারা মাত্র ৫০০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেন।

এতে চরম হতাশ ও অপমানিত হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই নারী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। গত মঙ্গলবার রাতে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এই পাশবিক ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই নারী (২৫) জানান, স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরে একটি ভাড়া ঘরে থাকতেন এবং ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাকে সন্তানদেরসহ বের করে দেন। নিরুপায় হয়ে তিনি মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসড়কের নিচে বসে ছিলেন।

এ সময় নেত্রকোনার বাসিন্দা ও স্থানীয় পানদোকানি সোহরাব হোসেন সেখানে এসে তার সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও আর্থিক সহায়তার কথা বলে তাকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই নারী বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’

নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ওই নারী স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচার দাবি করেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কোনো বিচার না করে উল্টো তার হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেন।

বিচার না পেয়ে চরম হতাশায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তিনি। এ সময় আশপাশের লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি পানের আড়তে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ওই নারী ও উপস্থিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে। পরে ওই নারীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম শুক্রবার সকালে জানান, ধর্ষণের ঘটনায় একজনকে আসামি করে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পানদোকানি সোহরাব হোসেন পলাতক, তাকে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।