ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার মামলার রায় মঙ্গলবার

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত এই সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনাসহ সশস্ত্র হামলা ও কঠোর দমনপীড়নে তাঁদের সরাসরি ভূমিকা ছিল।

শুনানিতে প্রসিকিউটররা জানান, ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশের ফলেই অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বা যৌথ অপরাধের আওতায় গত ১২ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আর্জি জানান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, আসামিরা কোনো ‘কমান্ডিং পজিশনে’ ছিলেন না এবং আত্মরক্ষার্থেই তাঁরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

আসামিপক্ষের এক আইনজীবী দাবি করেন, সব ধরনের নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এসেছিল, যাঁকে এই নির্দিষ্ট মামলায় আসামি করা হয়নি। যুক্তিতর্কে তাঁরা সব আসামির নির্দোষ দাবি করে খালাস চান।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। গত ২ আগস্ট এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার মামলার রায় মঙ্গলবার

প্রকাশ : ০৫:২৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত এই সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনাসহ সশস্ত্র হামলা ও কঠোর দমনপীড়নে তাঁদের সরাসরি ভূমিকা ছিল।

শুনানিতে প্রসিকিউটররা জানান, ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশের ফলেই অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বা যৌথ অপরাধের আওতায় গত ১২ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আর্জি জানান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, আসামিরা কোনো ‘কমান্ডিং পজিশনে’ ছিলেন না এবং আত্মরক্ষার্থেই তাঁরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

আসামিপক্ষের এক আইনজীবী দাবি করেন, সব ধরনের নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এসেছিল, যাঁকে এই নির্দিষ্ট মামলায় আসামি করা হয়নি। যুক্তিতর্কে তাঁরা সব আসামির নির্দোষ দাবি করে খালাস চান।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। গত ২ আগস্ট এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল।