ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের আদর্শের দল ধ্বংসের নয়: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে এসব কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। শোভাযাত্রায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষমতায় আসার পর দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কেন্দ্রীয়ভাবে বড় পরিসরে কোনো আড়ম্বরপূর্ণ শোভাযাত্রা করেনি বিএনপি। তবে রাজধানীর কয়েকটি সংসদীয় আসন ও বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা বের করেন। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। স্লোগানে স্লোগানে তারা দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এর আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি নেতারা দেশ গঠনে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মধ্যেও জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপিকে ব্যর্থ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতেও কোনো ষড়যন্ত্র দলটির অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।

সমাবেশে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “এ দেশে যা অর্জন হয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে হয়েছে। এ দেশে যা অর্জন হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। এ দেশে যা অর্জন হয়েছে, আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে হচ্ছে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযোদ্ধা নেতা। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান এই ক্ষুধার্ত, অত্যন্ত দরিদ্র দেশ, দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশ—৭২ থেকে ৭৫, মানুষ আমগাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছে। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলেন, এই দেশপ্রেমিক নেতাকে হত্যা করলেন। কেন? তিনি জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চেয়েছেন, তিনি কোনো প্রভুর কথায় চলতে চাননি।”

সমাবেশে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যে পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের অর্থনীতির সব সূচকে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, “একজন দেশপ্রেমিকের হাতে, একজন মুক্তিযোদ্ধার হাতে যে দল তৈরি হয়, আর যে দলকে বিকশিত করেছেন এ দেশের এক মহীয়সী মহিলা; যাকে অত্যাচার-নিপীড়ন করার পরও যাকে দেশ থেকে সরানো যায়নি, জনগণের সাথে থেকেছেন, জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন মৃত্যুর দিন পর্যন্ত—সেই দল কখনোই আপনি ধ্বংস করতে পারবেন না।”

তিনি বলেন, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটি জনগণের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে রাজধানীর পল্লবীতেও শোভাযাত্রা বের করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। শোভাযাত্রা থেকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার স্বার্থে জনগণকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটি বিভিন্ন সময় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। তবে জনগণের সমর্থন ও নেতাকর্মীদের ঐক্যের কারণে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনেও দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কাজ করবে বলে তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

Evaluare casino fără grabă: de ce jocul trebuie să rămână recreațional

জিয়াউর রহমানের আদর্শের দল ধ্বংসের নয়: রিজভী

প্রকাশ : ০৯:১৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে এসব কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। শোভাযাত্রায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষমতায় আসার পর দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কেন্দ্রীয়ভাবে বড় পরিসরে কোনো আড়ম্বরপূর্ণ শোভাযাত্রা করেনি বিএনপি। তবে রাজধানীর কয়েকটি সংসদীয় আসন ও বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা বের করেন। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। স্লোগানে স্লোগানে তারা দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এর আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি নেতারা দেশ গঠনে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মধ্যেও জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপিকে ব্যর্থ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতেও কোনো ষড়যন্ত্র দলটির অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।

সমাবেশে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “এ দেশে যা অর্জন হয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে হয়েছে। এ দেশে যা অর্জন হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। এ দেশে যা অর্জন হয়েছে, আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে হচ্ছে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযোদ্ধা নেতা। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান এই ক্ষুধার্ত, অত্যন্ত দরিদ্র দেশ, দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশ—৭২ থেকে ৭৫, মানুষ আমগাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছে। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলেন, এই দেশপ্রেমিক নেতাকে হত্যা করলেন। কেন? তিনি জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চেয়েছেন, তিনি কোনো প্রভুর কথায় চলতে চাননি।”

সমাবেশে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যে পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের অর্থনীতির সব সূচকে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, “একজন দেশপ্রেমিকের হাতে, একজন মুক্তিযোদ্ধার হাতে যে দল তৈরি হয়, আর যে দলকে বিকশিত করেছেন এ দেশের এক মহীয়সী মহিলা; যাকে অত্যাচার-নিপীড়ন করার পরও যাকে দেশ থেকে সরানো যায়নি, জনগণের সাথে থেকেছেন, জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন মৃত্যুর দিন পর্যন্ত—সেই দল কখনোই আপনি ধ্বংস করতে পারবেন না।”

তিনি বলেন, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটি জনগণের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে রাজধানীর পল্লবীতেও শোভাযাত্রা বের করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। শোভাযাত্রা থেকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার স্বার্থে জনগণকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটি বিভিন্ন সময় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। তবে জনগণের সমর্থন ও নেতাকর্মীদের ঐক্যের কারণে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনেও দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কাজ করবে বলে তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।