ঢাকা, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২
আপডেট : ১০ নভেম্বর, ২০২২ ১৭:৪০

জনতার হাতে স্টিয়ারিং, আন্দোলন এখন গণমুখী: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনতার হাতে স্টিয়ারিং, আন্দোলন এখন গণমুখী: রিজভী


সরকার কোনোভাবেই জনতার জোয়ার রুখতে পারবে না উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের অনুকূল সমাজভূমি বলে কিছু নেই। এখানে ফ্যাসিবাদ বেশিদিন টিকতে পারবে না। হুমকি-ধমকি, হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও গুম-খুনে এবার আর কাজ হবে না। জনতার হাতে স্টিয়ারিং, আন্দোলন এখন গণমুখী।
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আতঙ্কিত ও শিহরিত জনপদে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এখন প্রতিদিনই আমাদের নেতাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তুলে নিয়ে কয়েকদিন গুম করে রাখার পর গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। জামিন বাতিল করে জেলে পুরছে আমাদের নেতাদের।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সারাদেশে প্রতিদিন বিএনপির নেতাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। বিএনপি নেতাদের বাড়িতে অভিযানকালে হয়রানি, দুর্ব্যবহার করছে তারা। নারীদের অপদস্থ করছে। ১২ বছর আগে মারা যাওয়া ফরিদপুরের সাবেক কমিশনার ও শহর বিএনপির সভাপতি প্রয়াত বাচ্চু মিয়া আলীর বাড়িতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। মুন্সিগঞ্জ জেলায় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য যিনি এক বছর আগে মারা গেছেন, তার বাড়িতে সাদা পোশাকধারী লোকজন হানা দিয়েছে। তাদের বাড়িতে অভিযানকালে নারীদের সঙ্গে ন্যক্কারজনক আচরণ করেছে পুলিশ।

তিনি বলেন, ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে গণগ্রেপ্তার করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। নগরকান্দায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ফরিদপুরে অন্তত ছয় নেতার বাড়িতে অভিযানের নামে হয়রানি করেছে পুলিশ।

বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, প্রতিটি বিভাগীয় গণসমাবেশকে বানচাল করার জন্য যানবাহন ও পরিবহন বন্ধ করে দিচ্ছে সরকার। পথে পথে হামলা করছে। গ্রেপ্তার-মামলা করছে। তাতে কি শেখ হাসিনা রুখতে পারবে এই জনতার সাগরে ওঠা টালমাটাল জোয়ার? সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন যত দ্রুত অনুভব করবেন, ততই আপনাদের মঙ্গল। আপনাদের সময় শেষ। দ্রুত সংসদ ভেঙে দিন। অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরে যান।

রিজভী বলেন, এখন সরকারকে বুঝতে হবে অতীতের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবারের আন্দোলনের মাত্রা হবে ভিন্ন। এবারের আন্দোলনে নতুন ডাইমেনশন তৈরি হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক দক্ষতা ও অসামান্য নেতৃত্বের কারণে সারাদেশে একনায়কতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছে। তার নেতৃত্বে জনগণের স্বতঃফূর্ত অংশগ্রহণে আন্দোলন এখন গণমুখী। জনতার হাতে স্টিয়ারিং।

উপরে