ঢাকা, বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০২৩
আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০২৩ ১৭:৫২

মুরগির বাজার স্বাভাবিক হতে ৬ মাস লাগবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
মুরগির বাজার স্বাভাবিক হতে ৬ মাস লাগবে


আসন্ন রমজানে মুরগির দাম বাড়বে না উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাজারে ইতোমধ্যে দাম বেড়েই আছে। বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণেই মুরগির দাম বেড়েছে। এ বাজার স্বাভাবিক হতে ৬ মাসের মতো অপেক্ষা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন হলে তিন দিনব্যাপী ১২তম আন্তর্জাতিক পোলট্রি শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, মুরগির খাদ্য উপাদানের খরচ বেড়েছে। তবে খরচের তুলনায় দাম না পেয়ে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সরবরাহ সংকটে পড়ে বাজারে মুরগির দাম বেড়েছে।

রমজানে পোল্ট্রি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নীরব থাকবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মুরগির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে খাদ্য, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

মুরগির বাচ্চার দাম নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, একটা বাচ্চা উৎপাদন করতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার পর্যন্ত খরচ হয়। তাই এটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে পারে না। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একটি মুরগির বাচ্চা যাতে কোনোভাবেই ৪৫ টাকার বেশিতে বিক্রি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

দাম কমা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দাম কমার জন্য ছয়-সাত মাস অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, বর্তমানে বাজার ভালো হওয়ায় অনেকেই আবার নতুন করে উৎপাদনে আসতে শুরু করেছে। সুতরাং, নতুন পোলট্রি পণ্য বাজারে এলেই দাম কমে আসবে।

পোলট্রিশিল্প দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, মেধাকে বিকশিত করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রয়োজন। দেশের প্রত্যেকটি মানুষের জন্য এই পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। আগে একটি মুরগি ১৫টি ডিম দিত, এখন একটি মুরগি ৩০০টি ডিম দিচ্ছে। আগে একটি গাভি ৩ লিটার দুধ দিত। এখন একটি গাভি ৩০ লিটার দুধ দিচ্ছে। সুতরাং, এসব ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।

পোল্ট্রি খাতের সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজতে চলতি মাসের ১৬ থেকে ১৮ মার্চ তিন দিনব্যাপী পোল্ট্রি শোর আয়োজন করেছে ওয়াপসা-বিবি। এর আগে ১৪ থেকে ১৫ মার্চ দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি সেমিনার আয়োজন করে সংগঠনটি। আয়োজকেরা জানান, প্রদর্শনীতে ২০টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ৪৩টি বিদেশি কোম্পানির ১২৩টি স্টলসহ মোট ৫৯১টি স্টলও থাকছে প্রদর্শনীতে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাহিদ রশিদ, মেলার আহ্বায়ক ও ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের সভাপতি মশিউর রহমান প্রমুখ।

উপরে