ঢাকা, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২০:৩০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের হুমকি মাহমুদ আব্বাসের

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের হুমকি মাহমুদ আব্বাসের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার ব্যাপারে আলোচনা করতে মিসরের রাজধানী কায়রোতে আরব লীগের জরুরি বৈঠকে দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অবসানে ট্রাম্পের প্রকাশিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা সম্পর্ক বাতিলের হুমকি দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের তথাকথিত শতাব্দী সেরা চুক্তি খ্যাত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে পরিষ্কার অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে জরুরি বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন মাহমুদ আব্বাস। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে শনিবার কায়রোতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাহমুদ আব্বাস বলেন, এই চুক্তির পর তিনি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছেন যে, নিরাপত্তা সম্পর্কসহ তাদের সঙ্গে কোনও ধরনের সম্পর্ক থাকবে না। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রাম্পের এই চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, জর্ডান উপত্যকায় দখলদারিত্ব ও অবৈধ বসতি স্থাপনে ইসরায়েলকে অনুমতি দেয়া হয়। ইসরায়েলি স্বার্থের সুরক্ষায় হোয়াউট হাউস এই চুক্তি প্রকাশ করেছে।

গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২০১৭ সালে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সব ধরনের ছিন্ন করেন মাহমুদ আব্বাস। আরব লীগের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের ওই বৈঠকে মাহমুদ আব্বাস বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন কল ও ক্ষুদে বার্তায় সাড়া দেননি।

“কারণ আমি জানি, পরে তিনি এটাকে ব্যবহার করে বলবেন, এই চুক্তির ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। আমরা এই সমাধান কখনই মেনে নেব না। আমার ইতিহাসে এটাকে কখনই রেকর্ড করবো না যে, আমি জেরুজালেমকে বিক্রি করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে ফিলিস্তিনিরা এখনও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

মাহমুদ আব্বাস বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনও ধরনের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে একমাত্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেবেন না ফিলিস্তিনিরা। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও অন্যান্য বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক সংস্থার কাছে যাবে ফিলিস্তিন।

আরব লীগের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আবদুল ঘেইত বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈদেশিক নীতির তীব্র পরিবর্তন প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে কোনও শান্তি কিংবা সমাধান আসতে পারে না। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা মার্কিন প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর জন্য তিনি ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েল উভয়পক্ষকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন।

ট্রাম্পের শতাব্দি সেরা চুক্তির চুম্বক অংশ

>> চুক্তিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন পিএলও এবং হামাসের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করবে ইসরায়েল।

>> পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকা নিয়ে নতুন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে

>> গাজার ক্ষমতাসীন সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অস্ত্র জমা দেবে

>> পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইসরায়েলের হাতে

>> জেরুজালেম হবে নতুন ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের যৌথ রাজধানী

>> নতুন গঠিত ফিলিস্তিনের সামরিক বাহিনী থাকবে না। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী অর্থের বিনিময়ে নতুন ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে

>> নতুন ফিলিস্তিনের নাগরিকদের জন্য মিসরের দেয়া জমিতে গড়ে উঠবে বিভিন্ন কল-কারখানা

সূত্র : এপি, আলজাজিরা।

উপরে