ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন, ২০২০
আপডেট : ২০ মে, ২০২০ ১৫:৫৪

আমারও মন টানে কিন্তু অতটাও সঞ্চয় নেই: ফারহান

আমারও মন টানে কিন্তু অতটাও সঞ্চয় নেই: ফারহান


রেডিওর ভুবনে পদচারণা কমিয়ে এখন অভিনয়েই ব্যস্ত রয়েছেন তরুণ সম্ভাবনাময় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান। বেশ কিছু নাটক-টেলিফিল্মে অভিনয় করে ইতোমধ্যে আলোচনার টেবিলে জায়গা করে নিয়েছেন। যার সুবাদে তার ঝুলিতে যোগ হচ্ছে প্রচুর কাজ।

ফারহান জানান, ১৫ বছর পর মাকে নিজের কাছে নিয়ে এসেছেন। আগে হয়তো কয়েকমাসে কিংবা বছরে এক বা দুবার মাকে দেখতে যেতেন গ্রামের বাড়ি বরিশালে। কিন্তু এবার নতুন বাসা নিয়েছেন এবং মা ও বোনকে নিয়ে এসেছেন সেই বাসায়।
অনুভূতি জানাতে গিয়ে এ অভিনেতা বলেন, মায়ের জন্য আমার সবসময় খুব খারাপ লাগতো। খুব কম সময়ে দেখতে যেতে পারতাম কিন্তু এখন থেকে মা আমার সঙ্গেই থাকবেন। করোনার আগে মাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলাম। এখন তো কোন কাজ করছি না, ঘরে বসেই সময় কাটাতে হচ্ছে। পুরো সময়টা মায়ের সঙ্গে বেশ আনন্দে কেটে যাচ্ছে। এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের।
‘কিন্তু দেশের এখন যে অবস্হা সেদিকটা চিন্তা করলে সত্যি খুব মন খারাপ হয়ে যায়। দেশের এ পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে সেটা আমরা কেউ জানি না। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন, এগুলো মন খারাপ করিয়ে দেই।’
তিনি আরো বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমি কোন কাজই করছি না। চাইলে হয়তো করতে পারতাম, অনেকেই ডেইট চেয়েছিল। কিন্তু সংগঠনের যেহেতু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেহেতু কোন কাজ করছি না।
সত্যি বলতে আমি এখন স্ট্রাগলিং পিরিয়ড পার করছি। আমাকে আরো অনেক দূর যেতে হবে। স্বপ্ন দেখি অনেক কিছু করার। এখন যে পর্যন্তই এসেছি এতটুকুতে আসতে আমার অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কখনও নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি তবে নিজেকে ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করতে চাই। সব ধরণের চরিত্রে নিজেকে মিশিয়ে নিতে চাই। একজন অভিনেতা হতে যা প্রয়োজন সেটাই করবো।
আমরা যারা এখন স্ট্রাগলার তাদের পথচলা শুরু হয়েছে মাত্র, এখনও সঞ্চয় করতে পারিনি কিছুই। অনেকেই দেখছি করোনা পরিস্থিতিতে অনেকের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, সহযোগিতা করছেন। আমারও মন টানে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু ঐ যে আমাদের অতটাও সঞ্চয় নেই। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী যতটা পারছি সহযোগিতা করছি।
নতুন বাসা নিয়েছি, মা-বোনকে নিয়ে এসেছি। নিজের খরচ, মায়ের ওষুধের খরচ আরো আনুসঙ্গিক খরচ তো রয়েছেই। যদি আগে থেকে আমরা বুঝতে পারতাম তাহলে হয়তো সঞ্চয় করে রাখতাম। কারণ দিনশেষে আমাদেরকেও কিন্তু চলতে হয়। আমার সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগে আমাদের যারা লাইটম্যান, মেকাপম্যান, ক্যামেরাম্যান এরকম যাদের সাথে আমাদের প্রতিনিয়ত কাজ; তাদের অনেকেই ভালো নেই এসময়ে। অনেকে হয়তো না খেয়ে আছেন, বলতে পারছেন না। এদের জন্যই আমরা কাজ করে চলতে পারি।
করোনার আগে শেষ করা বেশ কিছু কাজ এবার ঈদে প্রচার হবে বলেন জানান ফারহান। তিনি বলেন, আগে কিছু কাজ করা ছিল সেগুলা এবার ঈদে আসতে যাচ্ছে।৭/৮ টা নাটক প্রচারে আসবে, আমি যতটুকু জেনেছি।

রেডিও থেকে অভিনয়ে আসার পর কয়েকটি কাজে বেশ ভালো সাড়া পান। এরপরই কিছু কন্টেন্ট নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেসময় সমালোচনাটাকে কিভাবে নিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে ফারহান বলেন, নতুনরা যখন কাজ করে তখন তাদের প্রথমদিকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে কিছু থাকে না। তাদের উপরে অনেক কিছুই চাপিয়ে দেওয়া হয়। শুরুর দিকটাতে আমি না চাইতেও সে কাজগুলো করতে হয়েছিল। তবে সেগুলো গল্পের প্রয়োজনেই, ইচ্ছাকৃত নয়। যখন অভিনয়ে একটু সাড়া পেতে লাগলাম তখন এরকম কয়েকটা কাজ আমাকে একটু ডাউন করে দিলো।
এরপর যখন সেটা বুঝতে পেরেছি তখন নিজের মধ্যে, কাজের মধ্যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছি। নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছি। সেসব ভুলগুলো থেকে নিজেকে শুধরে নিয়েছি।
ছোটপর্দার এ তারকা সাবলীল অভিনয় দিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শক হৃদয়ে পাকা স্থান করে নিয়েছেন। নিজের কাজ দিয়ে হয়ে উঠেছেন পরিচালকদের আস্থা। কাজ করছেন দেশের প্রথম সারির পরিচালকদের সঙ্গে। ২০১৬ সালে পরিচালক বান্নাহ’র হাত ধরে নাটকে আসা মুশফিক আর ফারহান এখন ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন

উপরে